কুড়িগ্রামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রভাতী প্রকল্পের মাধ্যমে ৯ উপজেলায় ২ হাজার ৭০৯ বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর সঙ্গে বদলে গেছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। উন্নত হয়েছে শ্রমজীবীদের জীবন-মান। গ্রামীণ জনপদের সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে সংযুক্ত করা হয়েছে করোনাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী নারী ও পুরুষকে।
সরকার ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যাগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্টের (ইফাদ) সহায়তাপুষ্ট প্রভাতী প্রকল্পের মাধ্যমে এরই মধ্যে ১০৫ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ হাটবাজার উন্নয়ন, পাঁচটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র্র নির্মাণ, গ্রামীণ হাটবাজারে নারীদের জন্য মার্কেট সেকশন নির্মাণসহ সড়ক ও বাজার উন্নয়নে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক দলের (এলসিএস) সদস্যদের আয়বর্ধক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে এলসিএস প্রকল্পে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
এলজিইডি কুড়িগ্রামের আওতায় ১ হাজার ৩১৮ নারী ও ১ হাজার ৩৯১ জন পুরুষ এলসিএস সদস্যের সমন্বয়ে জেলার প্রতিটি উপজেলায় মোট ৫৪টি প্যাকেজে ২৯টি পাকা সড়কের সোল্ডার ও স্লোব পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। যার কার্যকর দৈর্ঘ্যের পরিমাণ মোট ৬৪ দশমিক ৯০২ কিলোমিটার। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত মোট ব্যয় ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ৪ দশমিক ৩৯৫ কিলোমিটার পাকা সড়কে ৫০ জন, চর রাজিবপুরের ৮ দশমিক ৬৮৫ কিলোমিটার পাকা সড়কে ১৭৫, রৌমারী উপজেলার ৭ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার পাকা সড়কে ১৯৭, উলিপুরে ৬ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার পাকা সড়কে ১২৫, চিলমারীর ৭ দশমিক ৮২৮ কিলোমিটার পাকা সড়কে ১৯৯, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাকা সড়কে ১৬২, নাগেশ্বরী উপজেলার ৭ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার পাকা সড়কে ১৭৫, রাজারহাট উপজেলার ৭ দশমিক ৮১৪ কিমি পাকা সড়কে ১৭০ এবং
ফুলবাড়ী উপজেলার ৬ কিলোমিটার পাকা সড়কে ৬৫ জন এলসিএস নারী সদস্য প্রভাতী প্রকল্পের কার্যক্রমে কর্মরত। এছাড়াও প্রভাতী প্রকল্পের মাধ্যমে হাটবাজার উন্নয়নে ৪৪৩ জন, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে ১৮ জন এলসিএস সদস্য, আরইআরএমপি-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে ৭২০ ও জিওবির মাধ্যমে ২৪৩ জন পুরুষ এলসিএস সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।
এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানায়, আরইআরএমপি-৩ প্রকল্পে কর্মরতরা দৈনিক ২৫০ টাকা এবং এলসিএস সদস্যরা ৩০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। আরইআরএমপি প্রত্যেক কর্মীর ব্যাংক হিসাবে দৈনিক ৮০ টাকা এবং এলসিএস কর্মসূচির প্রত্যেক কর্মীর ব্যাংক হিসাবে দৈনিক ১০০ টাকা জমা রাখা করা হয়। তিন বছর পর তারা সঞ্চিত অর্থ মুনাফাসহ ফেরত
পাবেন।
এলজিইডি কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান জানান, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য জরুরি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকার গৃহীত কর্মসূচির অংশ এ প্রভাতী প্রকল্প। এ প্রকল্পের পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়বে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোর স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কার হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।









