এছাড়া বন্দিদের পরিবেশন করা হয় সাত পদের খাবার। এটা ছিল গতকাল কাশিমপুর কারাগারের বর্ষবরণের চিত্র। শুধু এ কারাগারেই নয়, দেশের সব কারাগারে থাকা প্রায় ৭৮ হাজার বন্দি এভাবেই বর্ষবরণ করেছেন বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।
তবে ব্যতিক্রম ছিল কেবল সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের বিশেষ কারাগার। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মধ্যে অবস্থিত এ বিশেষ কারাগারে জেল কোড অনুযায়ী উন্নত খাবার সরবরাহ করা হলেও ছিল না বর্ষবরণের কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন।
কারা অধিদপ্তর জানায়, কারাগারে বর্ষবরণ করা প্রায় ৭৮ হাজার বন্দির মধ্যে নারী বন্দি তিন হাজার। বাকিরা পুরুষ। হাজতি বন্দি ৫৫ হাজার। বাকিরা কয়েদি। বর্ষবরণের সকালে কারাগারগুলোয় বন্দিদের খিচুড়ি ও ডিম ভাজি দেয়া হয়। কিছু কারাগারে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বন্দিরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খিচুড়ির সঙ্গে ইলিশ খেয়েছেন। দুপুরে বন্দিদের পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরু বা খাসি, দই বা কোমলপানীয়, পান-সুপারি এবং পায়েস দেয়া হয়। রাতে নিয়মিত খাবারের অংশ হিসেবে রুই মাছ, ভাত, ডাল আর সবজি দেয়া হয়। ভালো খাবারের পাশাপাশি এদিন বন্দিদের অংশগ্রহণে কারাগারগুলোয় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বন্দিরা বিভিন্ন ধরনের বাংলা গান পরিবেশন করেন। কাশিমপুর ও কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। এছাড়া জেলা কারাগারগুলোতেও নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাধারণ বন্দিদের কারাগারে দিনভর ভালো খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ নানা ধরনের চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা থাকলেও ব্যতিক্রম ছিল বিশেষ কারাগার। এ কারাগারে বন্দি রয়েছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার আসামি প্রায় ১২৩ জন সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ অন্য বন্দিরা। বিশেষ এ কারাগারে ভালো খাবার দেয়া হলেও হয়নি কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন। অনেকটাই নিরানন্দভাবে শেষ হয় বিশেষ কারাগারের বর্ষবরণ।
কারা অধিদপ্তরের এআইজি (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কারাগারে বর্ষবরণ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য ভালো খাবারের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের বিশেষ কারাগারে কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া বর্ষবরণ উপলক্ষে কারাগারে কর্মরত পুরুষ ও নারী কারারক্ষীদের জন্য একই ধরনের বিশেষ পোশাক দেয়া হয়।’










