গ্রীষ্ম ও শীত মৌসুমে বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য খুলনা বিভাগে প্রসিদ্ধ জেলা মেহেরপুর। চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৬ হেক্টর জমিতে শসার চাষ হয়েছে, যা থেকে ১ হাজার ৮০০ টন শসা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে কৃষকের অভিযোগ, বীজগুলো অপূর্ণ ছিল। গাছে শাখাও হয়েছে ভালো। পাতা ও ফুলে পরিপূর্ণ হলেও শসা ধরেনি। অপরিপক্ব বীজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার শতাধিক কৃষক।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষক লিখিত অভিযোগ দিলে বীজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে জেলার প্রায় ৬ হাজার ৫৬২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে, যা থেকে ১ হাজার ৮০০ টন শসা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, ব্যবসায়ীরা স্থানীয় জাতের বীজ এবং ভালো ফলন হবে বলে আশ্বাস দিলে তারা তা সংগ্রহ করেন। এ অঞ্চলের কৃষক সাধারণত উঁচু বা সমতল জমিতে তৈরি মাচা ব্যবহার করে শসা চাষ করেন। কোমর সমান উঁচু এসব মাচায় শসা ঝুলে থাকে। বীজ রোপণের চার মাস বিরতিতে শসার ফলন আসার কথা। তবে গাছে ভালো শাখা-প্রশাখা হয়েছে। পাতা ও ফুলে পূর্ণ থাকলেও শসা ধরেনি। গাছগুলো বেড়েও উঠেছে সময়মতো। কিন্তু সেগুলোয় যথেষ্ট পরিমাণ ফলন আসেনি।
জেলার গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মিলন হোসেন জানান, তিনি মেহেরপুর শহরের একটি দোকান থেকে রকেট জাতীয় বীজ সংগ্রহ করেন। এক বিঘা জমিতে সে বীজ রোপণ করেন। পরে দেখতে পান এটি হাইব্রিড জাত। বীজটি অপরিপক্ব ছিল। এটি প্রতারণা। তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত বছর এক বিঘা জমি থেকে এক সপ্তাহে দেড় থেকে দুই মণ শসা উৎপাদন হয়েছে তার। সেখানে এ বছর একই জমি থেকে এক সপ্তাহে ১৫-২০ কেজি শসা সংগ্রহ করেছেন। মাচা ও জমি তৈরি এবং বীজ কেনাসহ প্রতি বিঘায় ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন প্রতি কেজি শসা বিক্রি করছেন ৩০-৪০ টাকা। এভাবে লাভ তো দূরের কথা, চাষাবাদের খরচই উঠবে না।
সবজিচাষী ইশাদুল ইসলাম জানান, তিনি লোকনাথ জাতের বীজ রোপণ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে অনেকের মতো তারও হাইব্রিড জাতের শসার ফলন হয়েছে। হাইব্রিড জাতের চাহিদা স্থানীয় বাজারে কম এবং দামও কম। এতে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে তার।
কৃষক হারুন হোসেন আসকারী জানান, প্রতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিপুল পরিমাণ শসা সরবরাহ করা হয় মেহেরপুর থেকে। এ বছর স্থানীয় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকা, সিলেট ও রাজশাহীর ক্রেতারা আগের বছরের মতোই শসার জন্য যোগাযোগ করছেন, কিন্তু সরবরাহ করতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, সবজির ভালো ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষক সবসময়ই শসা চাষে আগ্রহী। এ বছর কিছু এলাকায় ফলন বিপর্যয়ের কথা শুনেছি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে কৃষক লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










