দীর্ঘ ছুটিতে ব্যাহত হয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। ঈদ বা দুর্গা পূজার মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে টানা কয়েক দিন সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমদানি-রফতানি, ঋণপত্র (এলসি) খোলা, পণ্য খালাস ও ব্যবসায়িক লেনদেনে বিঘ্ন ঘটে। কাঁচামাল সংগ্রহ ও পণ্য সরবরাহে দেরি হওয়ায় ব্যাহত হয় শিল্পোৎপাদনও। পাশাপাশি বেড়ে যায় পণ্য পরিবহন, বন্দরে কনটেইনার রাখাসহ বিভিন্ন খরচ। এছাড়া দীর্ঘ ছুটির প্রভাব পড়ে কৃষিপণ্যের বাজারেও। ব্যবসায়ীদের মতে, উৎসবের ছুটি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও দীর্ঘ ছুটির ক্ষেত্রে ব্যাংকিং, কাস্টমস, বন্দর, পরিবহন ও শিল্পোৎপাদন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। তা না হলে আমদানি করা পণ্য খালাসে দেরি, কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরির পাশাপাশি ব্যবসার খরচও বাড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি দুদিনের পরিবর্তে একদিন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সপ্তাহে দুদিন সাধারণ ছুটি এবং ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, পূজা, বড়দিনসহ বিভিন্ন পার্বণের ছুটি মিলিয়ে বছরে ১২০-১৩০ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকছে। এতে ব্যাংকিং লেনদেনে ব্যবসায়ীরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। সাধারণত ব্যাংক ঋণের বিপরীতে ১৪-১৫ শতাংশ সুদ দিতে হলেও দীর্ঘ ছুটির কারণে তা বেড়ে ২৫-৩০ শতাংশে দাঁড়াচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দাবি করেন।
গত বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে টানা ১০ দিনের ছুটিতেও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ ছুটিতে বন্দরে আমদানি করা পণ্য খালাসে দেরি, কনটেইনার জমে থাকা, কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্ন এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। জাহাজ চলাচল, শুল্কায়ন ও পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার কারণে বাড়তি খরচের চাপও তৈরি হয়েছিল।
চলতি বছর দুর্গা পূজার ছুটিতেও আমদানি-রফতানি ও শুল্কায়ন কার্যক্রম সচল রাখতে উদ্যোগ নিতে হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। সংস্থাটি আটটি কাস্টমস হাউজ এবং ১৬টি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটকে সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দেয়।
ছুটির সূচির কারণে ১৭ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এ বন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রফতানি হয়। বন্দরসংশ্লিষ্ট সংগঠনের সভাপতি মোহসিন মিলন জানান, ছুটির কারণে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব আয় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার হিসাবে, এ সময়ে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় বিলম্বিত হতে পারে।
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, ‘দীর্ঘ ছুটিতে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ সময় কেনাবেচা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক লেনদেনও করা যাচ্ছে না। এ ধরনের ছুটিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।’










