সিরাজগঞ্জে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিনের বেলা থাকছে গরম। সন্ধ্যা এবং ভোরে হালকা শীত। দিন-রাতের তাপমাত্রার এমন তারতম্যের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা।

চিকিৎসকরা বলছেন, বছরের অন্যান্য সময় সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ রোগী এসেছে। এখন প্রতিদিন ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে রোগীর সংখ্যা। এসব রোগীর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, ডায়রিয়া ও সর্দি-জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (শিশু) ডা. আমিনুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘অসুস্থ হওয়ার অন্যতম উপসর্গ জ্বর। সাধারণ জ্বর হলে দুই তিনদিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। বেশির ভাগ শিশুর শুরুতেই তীব্র জ্বর আসছে। ১০৪-১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠছে। সর্দি-কাশি বা অন্য উপসর্গ থাকলে জ্বর কমছে না। ঋতু বদলের কারণে শীতের শুরুতে ও শীতের শেষে অসুখ বেশি হয়। এসব রোগে শিশু ও বৃদ্ধই বেশি আক্রান্ত হন। কারণ শিশু ও দীর্ঘদিন ধরে পুরনো রোগে ভোগা ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এ সময় তাদের ভাইরাস জ্বর, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণের কারণে ফুসফুসের নানা রোগ হয়।’

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে ছয় বছরের শিশু শাফিন আহামেদকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন বাবা আলী আকবর। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে সন্তানের জ্বর। একটু দুশ্চিন্তায়। এর আগে আমি এবং আমার স্ত্রীও ১০ দিন ধরে জ্বর ও কাশিতে ভুগেছি।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার রায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বছরের অন্যান্য সময় প্রতিদিন ৪০০-৫০০ রোগী এসেছে হাসপাতালে। এখন প্রতিদিন ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে রোগী। জ্বর, কাশি,  শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমায় আক্রান্তদের উপসর্গ দেখা দেয়া মাত্র অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

বেলকুচি উপজেলার গাড়ামাসি গ্রামের আবু হাসনাত জানান, তিনি  প্রায় ১০ দিন জ্বর ও কাশিতে ভুগছেন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে  উপশম না হওয়ায় শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। তার পরিবারের আরো তিনজন একই রোগে আক্রান্ত।

এ প্রসঙ্গে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জ্বর মূলত কোনো রোগ নয়। দেহে কোনো জীবাণুর সংক্রমণ হলে জ্বর হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদির সংক্রমণে জ্বরে আক্রান্ত হয় মানুষ। দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এখন ভাইরাসজনিত জ্বর হচ্ছে। এ জ্বর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনে ছড়াচ্ছে। তাই তিনদিনের বেশি জ্বর থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়।’