পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের পত্তাশী গ্রামের জিল্লুুর রহমান শান্তি জোমাদ্দার প্রথমে কলা চাষ শুরু করেন দুই বিঘা জমিতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কলা চাষে ব্যর্থ হন। দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। এরপর শুরু করেন ৭০ শতক জমিতে ভাঙ্গর জাতের বেগুন চাষ। ৮০০ বেগুন চারা লাগান সে জমিতে, খরচ হয় ১ লাখ টাকার মতো। শান্তি জোমাদ্দারের আশা, বেগুন বিক্রি করে ৪ লাখ টাকারও বেশি আয় হবে তার। বেগুন চাষেই শান্তি ফিরেছে শান্তির মনে।

আলাপকালে শান্তি জোমাদ্দার জানান, তিনি প্রথমে কলা চাষ শুরু করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বুলবুল, আম্পানের তাণ্ডবে স্বপ্ন মিশে যায় মাটিতে। এরপর ইন্দুরকানী উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইব্রাহীম সরদারের কাছে গেলে তিনি তাকে (শান্তি) বেগুন চাষের পরামর্শ দেন।

শান্তি জোমাদ্দার গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট খুলনা (এসআরডিআই) প্রকল্প থেকে সার ও বীজ কেনা বাবদ ১ হাজার ৭০০ টাকা বরাদ্দ পান। এ বরাদ্দ পেতে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সহায়তা করেন।

শান্তি জোমাদ্দার এ অর্থ দিয়ে শুরু করেন ভাঙ্গর জাতের বেগুন চাষ। মাত্র ৭০ শতাংশ জমিতে তিনি চারা লাগান ৮০০টি। বেগুন ক্ষেতে এ পর্যন্ত তার প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।

শান্তি জোমাদ্দার বলেন, ‘মনডায় এখন আনন্দ ধরে না। প্রতি সপ্তাহে ক্ষেত থেকে ১০-১২ মণ বেগুন তুলছি। বাজারে তা বিক্রি হয় ২৪ হাজার টাকায়। খরচ বাদ দিয়ে থাকে ২০ হাজার টাকার মতো। এরপর তিনি বলেন, জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত ক্ষেত থেকে বেগুন তুলতে পারব। এখন আর তেমন খরচ নেই, শুধু আয়ের পালা। আশা করি, ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হবে ইনশাআল্লাহ।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইব্রাহীম সরদার বলেন, সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে প্রতি শতকে ২০০ কেজি বেগুন উৎপাদন করা সম্ভব। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চাষী জিল্লুর রহমান শান্তি জোমাদ্দার ৭০ শতক জমির বেগুনের ক্ষেত থেকে ১৪ টন বেগুন পাবেন, যা বিক্রি করে ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা আয় হবে তার।