ফলে দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে দেশীয় কাঁচামরিচের দাম আরেক দফা কমে ৬০ টাকায় নেমেছে। কাঁচামরিচের দাম কমায় খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ এমন থাকলে দাম বাড়বে না।

হিলি বাজার সূত্রে জানা গেছে, দুদিন আগেও প্রতি কেজি দেশীয় কাঁচামরিচ ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে দাম কমে মাত্র ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪০ টাকা। তারও আগে দাম বেড়ে ২৮০ টাকা কেজিতে দেশীয় কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে।

হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা ইয়াসিন আলী বলেন, ‘হঠাৎ করে কাঁচামরিচের দাম যেভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তাতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাঁচামরিচ খাওয়ায় বাদ দিতে হয়েছিল। বাধ্য হয়ে ক্রয়ের পরিমাণ কমাতে হয়েছিল, প্রয়োজনের অর্ধেক কিনতে হচ্ছিল। বর্তমানে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি হওয়ায় দেশীয় কাঁচামরিচের দাম অনেকটাই কমে এসেছে। কাঁচামরিচের দাম এখন ৬০ টাকায় নেমেছে। এতে আমাদের সুবিধা হয়েছে।’

কাঁচামরিচ কিনতে আসা নারগিস আকতারও একই কথা জানান। তবে তিনি বলেন, ‘কাঁচামরিচের দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি আছে কিনা সেগুলোও তদারক করা দরকার।’

হিলি বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা বিপ্লব শেখ বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচামরিচের খেত নষ্ট হয়ে এর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। ফলে বাজারে কাঁচামরিচের চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ কমায় দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছিল। আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছিল, সে মোতাবেক বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছিল। সরকার দাম কমাতে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয়ায় বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেশীয় কাঁচামরিচের পাশাপাশি আমদানীকৃত কাঁচামরিচের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে এসেছে। সেই সঙ্গে আবহাওয়া আগের তুলনায় ভালো হওয়ায় দেশীয় কাঁচামরিচের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। আমদানি অব্যাহত থাকলে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম আরো কমতে পারে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করছি। ব্যবসায়ীরা কী দামে পণ্য কিনছেন বা বিক্রি করছেন তার রসিদ যাচাই করা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে বাড়তি দাম নেয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’