কাজ শেষ হওয়ার আগেই সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন ও মহিলা হোস্টেল নির্মাণে প্রায় ৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার ফাইনাল বিল পরিশোধ করা হয়েছে। ভবন দুটির নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কাজ অসম্পন্ন রেখে ফাইনাল বিল পরিশোধের ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল লক্ষ্মীপুর পিটিআই প্রাঙ্গণে সরজমিনে দেখা যায়, একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনো কাজ চলছে। আস্তর, রঙ, টাইলস, দরজা-জানালা, ফ্যান, লাইট, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মহিলা হোস্টেল ভবনেরও প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি।
তবে দুটি ভবনের বিপরীতে প্রায় ৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ফাইনাল বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি থেকে জানা গেছে। এর মধ্যে একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবনের বিল প্রায় ২১ কোটি ৪৫ লাখ ও মহিলা হোস্টেল ভবনের বিল প্রায় ১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
এলজিইডির নথি অনুযায়ী, পিটিআইয়ের পাঁচতলা একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কাজ শুরুর তারিখ ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর এবং নির্ধারিত সমাপ্তির তারিখ ছিল ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর।
অন্যদিকে মহিলা হোস্টেল নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ১৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ কাজের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কাজ শুরুর তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ এবং নির্ধারিত সমাপ্তির তারিখ ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫। দুই প্রকল্পের মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ফাইনাল বিল হিসেবে পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, গত অর্থবছরের জুন ক্লোজিংকে কেন্দ্র করে দ্রুত বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতির তুলনায় বিল পরিশোধের গতি ছিল বেশি। বিল দেয়ার সময় কাজের পরিমাণ ও গুণগত মান যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। ফাইনাল বিলের সঙ্গে থাকা পরিমাপ বই (এমবি), কাজ সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যয়ন, বিল অনুমোদনের নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যয়ন পরীক্ষা করা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
এর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের পর গত ১৫ জুলাই এলজিইডি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অভিযোগের মধ্যে নির্মাণাধীন মসজিদ, কালভার্ট, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিল অনুমোদনে কমিশন দাবির কথা বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। গত ২৮ জুলাই তদন্ত কমিটি সরজমিনে তদন্ত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে তদন্তের ফলাফল বা ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘১৫ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে। তখন আসেন, সে সময় তথ্য দেব। এখন কোনো তথ্য দেয়া যাবে না।’
তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বেলাল হোসেন ফাইনাল বিল নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি ফাইনাল বিল নিয়েছি। তবে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাইনি। কাজ দ্রুত শেষ করে দিচ্ছি।’
লক্ষ্মীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরীও ফাইনাল বিল দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।










