টানা বৃষ্টিতে সিলেট নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টির পানি বিপণি বিতান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে। এছাড়া নগরীর নিচু এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। 

সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নগরীতে ৪৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটা স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত। 

সরজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির ফলে নগরীর মদীনা মার্কেট, আখালিয়া, সুবিদবাজার, জালালাবাদ, হযরত শাহজালাল (র.) মাজার এলাকার পায়রা ও রাজারগল্লি, বারুতখানা, হাওয়াপাড়া, যতরপুর, ছড়ারপাড়, তালতলাসহ বেশকিছু নিচু এলাকার সড়ক তলিয়ে যায়। এছাড়া বারুতখানা এলাকার কয়েকটি দোকান ও দর্শনদেউড়ি, জালালাবাদ হাউজ, ইদ্রিস মার্কেট ও জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশন এবং চৌহাট্টার বেশকিছু দোকানপাটের ভেতরে ঢুকে পড়ে পানি। সড়কে হাঁটু সমান পানি থাকায় যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ধীরগতির কারণে অনেক সড়কে দেখা দেয় যানজট।

টানা বৃষ্টিতে নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী দোষারোপ করছেন নগর কর্তৃপক্ষকে। তারা জলাবদ্ধতার জন্য সিটি করপোরেশনের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘‌ভারি বৃষ্টির কারণে ড্রেন দিয়ে পানি নামতে সময় লাগছে। সিটি করপোরেশনের টিম কাজ করছে। কোথাও ময়লা-আবর্জনার জন্য পানি আটকে গেলে তা পরিষ্কার করে দেয়া হচ্ছে।’

তিনি জানান, সিলেট সিটি এলাকায় যে ড্রেনগুলো নতুন করে করা হয়েছে, সেগুলো আরো বড় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদাররা সে ড্রেইনগুলো তৈরির সময় অনেকটা সরু করে ফেলেছেন। তাই সঠিকভাবে এসব ড্রেন দিয়ে পানি না নামায় নগরের এ জলাবদ্ধতা। ড্রেনগুলোকে আরো বড় করলে হয়তো নগরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ: পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করেই সড়কে কাজ করার ফলে ঘর-বাড়িতে পানি ওঠায় বিক্ষোভ করেছে সিলেট নগরীর দুটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে মইয়ারচর ও সোনাতলা এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুমারগাঁও থেকে বাদাঘাট হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ৩৮ ও ৩৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করেই কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। এতে অল্পবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বাসা-বাড়িতে পানি উঠছে। বিষয়টি তারা সওজ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বার বার অবগত করেছেন। কিন্তু তারা কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। এ কারণে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে কুমারগাঁও-বাদাঘাট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ৩৮ ও ৩৯নং ওয়ার্ডের মইয়ারচর, সোনাতলা, নোয়াখুররমখলা ও নাজিরেরগাঁও এলাকাবাসী। সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’