মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে সরকারি পর্যায়ে ঝুঁকি মোকাবেলার তহবিল থেকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় নারীসহ সব উদ্যোক্তার জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘ভয়েসেস ফর চেঞ্জঃ পুটিং ক্লাইমেট অ্যাকশন, উইমেন এন্ট্রাপ্রেনারস, অ্যান্ড এসএমই ইন বাংলাদেশিজ পাবলিক পলিসি’ -শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, নারী উদ্যোক্তা বৃদ্ধি মানে শুধু সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং তাদের দৃশ্যমানতা বাড়ানোই হবে মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই ফাউন্ডেশনের মতো সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো যদিও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে। তারপরও জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী হওয়া সত্ত্বেও সুযোগের পরিধি এখনো যথেষ্ট নয়।

উপদেষ্টা বলেন, দেশের ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টির সবচেয়ে বড় উৎস। যার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই নারীদের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করে। একজন নারী উদ্যোক্তা নিজের সাথে আরো কয়েকজন নারীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেন।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশেও পরিবেশবান্ধব নয় এমন কৃষি ও পশুপালন পদ্ধতিতে কার্বন নিঃসরণ বাড়ছে। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে গবাদিপশুর খাদ্যভ্যাস উন্নয়নের মাধ্যমে মিথেন কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আয়োজনে উপস্থিত বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের (এসএমই) কার্যকর অংশগ্রহণ ও এসব খাতে টেকসই নীতি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তরা জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গঠনে নারীদের অবদান ও এসএমই খাতের সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

উইমেন এন্ট্রাপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মুশফিকুর রহমান, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রতিনিধি দলের ডেপুটি হেড মিস বাইবা জারিনা।