বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সরকার কাজ করছে।

রোববার (১৫ মার্চ) চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, এ সরকার কেবল কথার সরকার নয়—সরকার বাস্তব ফলাফল দেখাতে চায়। প্রতি বছর দেশে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন মানুষ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হলে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই বিনিয়োগ আনতে হলে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা বলা হলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। তাই বেসরকারি খাতকে আরো সক্রিয় করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও ডিরেগুলেশনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ঈদের পর অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবার বৈঠক করা হবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার সমস্যা, কন্টেইনার জটসহ ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জটিলতা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি বলেন, দ্রুত বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে এবং এর সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সুশাসনের ঘাটতি দীর্ঘদিন চলতে পারে না উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের দেশে প্রশাসনিক দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই জনগণের দেয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী সরকার ফলাফল দেখাতে বদ্ধ পরিকর।

চট্রগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

এতে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কাস্টমস ও বন্দর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।