বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় আইন-শৃঙ্খলা অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত জুনে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোয় খুন, অপহরণ ও মানব পাচারে ৪২টি মামলা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে স্থানীয় প্রশাসনও উদ্বেগ জানিয়েছে।

সর্বশেষ রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, জুনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুন হয়েছে সাতজন। সর্বশেষ ৬ জুলাই উখিয়ার কুতুপালং-১ ক্যাম্পের এ/৯ ব্লকের উপপ্রধান মো. এবাদুল্লাহ ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এর মধ্যে গত ছয় বছর ক্যাম্পে মারা গেছে ১৫০ জনেরও বেশি। জুনে দায়ের হওয়া ৪২ মামলার মধ্যে ১৭টি নিয়মিত মামলার পাশাপাশি ২৫টি মোবাইল কোর্ট সম্পর্কিত মামলা হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশী সহায়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গারা বাড়তি আয়ের জন্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্যাম্পগুলোয় ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের একাধিক সংগঠনের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। মানব পাচার ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন কারণে ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেড়েছে। এর পরও বাংলাদেশী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ক্যাম্পগুলোয় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। ক্যাম্প অভ্যন্তরে এপিবিএন সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত। নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র একটি গণ্ডির মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান করায় পরিস্থিতি দেশের যেকোনো স্থানের চেয়ে ভিন্ন। এর পরও কেউ অপরাধ করলে পার পাবে না। পুলিশ সামর্থ্য অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট।