এক্ষেত্রে কোনো গালগল্প ও তৈরি করা বাস্তবতা মানবেন না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
তিনি গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবন মিলনায়তনে ‘ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন (কিউজিডিপি) ও জেলাভিত্তিক মোট দেশজ উৎপাদন (ডিজিডিপি) উন্নয়ন’ প্রকল্পের ওপর আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারপ্রধানের অঙ্গীকার তথ্য-উপাত্তের সঠিক উন্নয়ন ঘটানো। কোনো গালগল্প নয়। তৈরি করা বাস্তবতা মানব না। কেননা সরকার মানুষের জীবনের উন্নতি ও বৈষম্যহীন অর্থনীতি গড়তে চায়।’
বিবিএসর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
সেমিনার সঞ্চালনা করেন বিবিএসর পরিচালক মুহাম্মদ আতিকুল কবীর।
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার, বিবিএসের উপপরিচালক তোফায়েল আহমদ, বর্তমান সরকার আদেশ দিয়ে তথ্য-উপাত্ত তৈরি করতে চায় না, বরং একটি শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক পেশাদারি জায়গায় যেতে চায় যেখানে উপাত্ত নির্ভরযোগ্য হয়। সেটা দাঁড়ালেই আমরা সত্যিকার অর্থে হিসাব করতে পারব, কী মাত্রায় উন্নতি করছি, কেন করতে পারছি না, আমাদের সীমাবদ্ধতা কী, সংকটের জায়গাগুলো কী এবং তার সমাধানের পথটা কী?’
রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানের কথা বাদই দিলাম, কর সংগ্রহের দক্ষতা—সেখানে অনেক সমস্যা আছেই। কর না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ অনেক বাড়তে পারে। করহার কামিয়েও রাজস্ব বাড়ানো যায়। এটা নিয়ে বিতর্ক চাই না। তথ্য এখন একটি ক্ষমতা, যেটা আগেও ছিল, দিনে দিনে সেটা আরো ক্ষামতাবান হয়ে উঠছে। এ কারণেই যথার্থ তথ্য জরুরি। না হলে অপতথ্য প্রধান্য বিস্তার করবে। যথার্থ তথ্য জানলে অপতথ্যের ক্ষমতা কমবে। সঠিক তথ্য ও উপাত্তকে বাস্তবতার সত্যিকার প্রতিফলন হিসেবে মেনে নিতে হবে। সরকারের কাজ নির্ধারণ করার জন্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং এক্ষেত্রে বিবিএস সঠিক তথ্য পায় না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার বলেন, ‘১০ বছর পরে এসে যদি প্রশ্ন করা হয়, আমরা সেকেন্ডারি ডেটা ব্যবহার করি। সেই দায় আমাদের দিলে আর কিছু করা থাকবে না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেটা যতক্ষণ রিভাইস বা আপডেট না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদেরটা রিভাইস করতে পারব না। এটা আমাদের নির্ভরতা। আমাদের প্রকল্পভিত্তিক জরিপ, তাই হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত নিতে পারি না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা সেকেন্ডারি তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করি, কিছু কিছু জরিপের তথ্য-উপাত্ত, যেটা আপডেট না। এ কারণেই আজকের এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে যাতে আপনাদের ‘‘আউটপুট’’ নিয়ে আরো বেশি নির্ভুল করতে চাইছি। আমরা আপনাদের আরো আস্থা অর্জন করতে চাইছি।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিবিএসের উপপরিচালক তোফায়েল আহমদ জানান, আগামী অর্থবছরে জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে ভিত্তি বছর পরিবর্তন করা হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরকে নতুন ভিত্তি বছর হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। ১০ বছর পরপর ভিত্তি বছর পরিবর্তন করা হয়। সেটার অংশ হিসেবে আগামী অর্থবছরে আবারো পরিবর্তন আসছে।
বিবিএসর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। সেমিনার সঞ্চালনা করেন বিবিএসর পরিচালক মুহাম্মদ আতিকুল কবীর।










