দেশের ১১টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, সিলেট,
খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। অন্যদিকে,
মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি দেখা গেছে। কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ,
ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামছে।
দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মোট ৬৮টি উপজেলা এবং ৫০৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৯৫টি পরিবার। এছাড়াও ৫৪ লাখ ৫৭
হাজার ৭০২ জন মানুষ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যুর খবর
পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৪১ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ১২ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া
মৌলভীবাজারে এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত
রয়েছে। সরকারের তরফ থেকে ৩ হাজার ৯২৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৫ জন
মানুষকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। যেখানে ৩৬ হাজার ১৩৯টি গবাদি পশুও আশ্রয় পেয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ৫১৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
সরকারের ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে
বিভিন্ন জেলায় নগদ অর্থ, চাল, শুকনা খাবার, শিশুখাদ্য এবং গবাদি পশুর খাদ্য বরাদ্দ
করা হয়েছে। সর্বমোট ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার
প্যাকেট শুকনা খাবার, ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের
গবাদি পশুর খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য
আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম
অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতায় ত্রাণ
কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বন্যার পরবর্তী সময়ের জন্যও পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুদ
করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ
তহবিলে সহায়তা করতে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাহায্য পাঠানোর জন্য
আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাহায্যের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরীফুল ইসলামের
সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে তথ্য ও সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। সাহায্যের জন্য +৮৮-০১৭১৮-০৬৬৭২৫ বা +৮৮-০১৮১৯২৮১২০৮ নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।










