আগে পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগকে ‘ভৌত সেবা’ হিসেবে বিবেচনা করে তুলনামূলক কম আর্থিক ক্ষমতার সীমা প্রযোজ্য হলেও নতুন পরিপত্রে এটিকে পণ্য, যন্ত্রপাতি, মালামাল ও সরঞ্জামাদি ক্রয়ের সঙ্গে একই শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বোর্ড বা পরিচালনা পর্ষদের জন্য পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষমতা কার্যকর হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা নতুন পরিপত্রে সরকারি করপোরেশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি/সংস্থার পণ্য, কার্য ও পরামর্শক সেবা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পরিপত্রে আগের অর্পিত আর্থিক ক্ষমতার সংশোধন ও পরিবর্ধনের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগের সংশ্লিষ্ট পরিপত্রগুলো বাতিল করে নতুন সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী ক্ষমতা অর্পণের কথা জানানো হয়েছে।

নতুন পরিপত্রের পরিচালন খাতের ২ নম্বর আইটেমে পণ্য, যন্ত্রপাতি, মালামাল ও সরঞ্জামাদি ক্রয়ের পাশাপাশি ‘পরিবহন/মালামাল পরিবহনের জন্য পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ’ স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ শ্রেণীতে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রতিনিধির অর্পিত ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা, করপোরেশন/স্বায়ত্তশাসিত/সরকারি বা যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বোর্ড বা পরিচালনা পর্ষদের ৩০ কোটি টাকা এবং নির্বাহী প্রধানের ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আঞ্চলিক অফিস বা ইউনিটপ্রধানের ক্ষেত্রে এ সীমা ২ কোটি টাকা।

এর আগে পরিবহন সেবা ‘ভৌত সেবা’ শ্রেণীর মধ্যে থাকায় এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আর্থিক ক্ষমতা কম ছিল। পুরনো ব্যবস্থায় ‘ভৌত সেবা’ শ্রেণীর আওতায় পরিবহন সেবাসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের বিধান ছিল এবং সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে নির্ধারিত সীমার মধ্যেই চুক্তি অনুমোদন করতে হতো। নতুন পরিপত্রে পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগকে ওই শ্রেণী থেকে সরিয়ে পণ্য ও সরঞ্জামাদি ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বড় পরিমাণে পণ্য পরিবহনের জন্য প্রায়ই বড় অংকের পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ করতে হয়। যেমন সার, খাদ্যশস্য বা অন্যান্য সরকারি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চুক্তির মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুন শ্রেণীবিন্যাসের ফলে কোনো সরকারি করপোরেশনের পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে তা বোর্ড বা পরিচালনা পর্ষদের অর্পিত আর্থিক ক্ষমতার আওতায় অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ক্রয় প্রক্রিয়ায় পিপিআর ২০২৫, অনুমোদিত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা এবং পরিপত্রে উল্লিখিত অন্যান্য শর্ত অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।