বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, আগামী মাসে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তোলায় বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গতকাল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুকরণবিষয়ক এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুকরণে প্রয়োজনীয় বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। এতে দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসের কান্ট্রি ম্যানেজাররা সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং সন্নিকটে। অন্যদিকে ইউনান একটি স্থলবেষ্টিত প্রদেশ। তাই কক্সবাজার ও কুনমিংয়ের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু করা চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের জন্য একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হতে পারে। এছাড়া এয়ার-এশিয়া পেনাংয়ের সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি ফ্লাইট শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’ এ সময় ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইনসের কক্সবাজার-ব্যাংকক-দুবাই ফ্লাইট চালুর আগ্রহকে স্বাগত জানান মন্ত্রী।

নতুন ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলোকে আর্থিক সুবিধা দেয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদসহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

একই দিনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, রিয়াদে হামলার কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের বিমান চলাচলে সাময়িকভাবে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। ক্যান্সেল হওয়া ১০টি ফ্লাইটে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি যাত্রীর চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। তবে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা বৈশ্বিক সংকট। তাই সবার সহযোগিতায় এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা রাখি।’