ভূমি খেকো বালু সন্ত্রাসীদের অগ্রাসন, অত্যাচারে অতিষ্ঠ কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলাধীন রামপ্রসাদের চর। ২০-৩০টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিদিন গ্রামের আবাদী জমি ও বসতভিটা নদী গর্ভে বিলুপ্ত হচ্ছে। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বাপ-দাদার ভিটা, ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ হারিয়ে গ্রামটির সাধারণ জনগণ এখন প্রায় নিঃস্ব। জীবনের শেষ সম্বল রক্ষার মৌলিক তাড়না থেকে রোববার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন গ্রামবাসী।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের ফাঁড়ি স্থাপনের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ঢাকা-সিলেট নৌ পথ অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দীর্ঘদিন বালু উত্তোলন হয়েছে। এরপর ২০২১ সালে সরকারি ইজারা বন্ধ করার মাধ্যমে এই নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়। তবে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে আবারো রাতের আঁধারে নিয়মিত বালু তোলা হচ্ছে। রাতে বালু কেটে যাওয়ার পর সকাল থেকেই শুরু হয় কৃষকের জমি ভাঙন। শতাধিক কৃষকের জমি এরই মধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে।
মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এইচ. এম. মহসিন বলেন, ‘এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত আছে মেঘনার চালিভাঙা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবি, চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল বারেক, চালিভাঙা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আলী হোসেন, মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত প্রধানসহ আরো বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। প্রশাসন থেকে মেঘনা উপজেলা নৌ পুলিশের ইনচার্জ আজমগীর হোসেন এর সঙ্গে যুক্ত আছে। তাই প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।’
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা আপনার কাছে আমরা ভাত-কাপড় চাই না, কোনো প্রমোশনের জন্য দাঁড়াই নাই। আমাদের ঘর বাড়ি, মাটি রক্ষায় আপনার সরাসরি হস্তক্ষেপ চাই। আমাদের মৃত্যুর পর যেন এই গ্রামের মাটিতে আমাদের কবর দিতে পারে সেই অধিকার চাই। যেভাবে প্রতি রাতে বালু কাটে এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে।’
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর কোনো হামলা-মামলা হলে কঠোরভাবে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক জয়নুল আবেদীন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, কুমিল্লা জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী হাবিবুর রহমান, মেঘনা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতেখার শিমুলসহ আরো স্থানীয়রা।
চারশত বছর আগে প্রমত্তা মেঘনা নদীর পলি থেকে মেঘনা উপজেলার চরাঞ্চলটির উৎপত্তি।
বালুসন্ত্রাসীদের ড্রেজার খুবলে খাচ্ছে রামপ্রসাদের চর গ্রামের শরীর। প্রতিদিন রক্তাক্ত করছে গ্রামটির অস্তিত্বকে। গত ২৫ বছরে রামপ্রসাদেরচর গ্রামের ৭০ ভাগ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ গ্রামের ২৪৫টি পরিবারের বসতভিটা, ৩০০টি পরিবারের আবাদী জমি, দুটি মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন মেঘনার তলদেশে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত চালিভাঙা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবি মুঠোফোনে বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদের নাজমুল হাসান রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য আওয়ামী দোসরদের নিয়ে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। আমরা এসব বালু মহলের সঙ্গে যুক্ত নই।’










