বাগেরহাটে খাল খননের পর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাঁধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষ করায় সুবিধাবঞ্চিত হয়েছেন কৃষক। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার খালের বাঁধ ও নেট-পাটা অপসারণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে জেলার সব খাল দখলমুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন।

গত বুধবার সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম সাইফুল্লাহ পুলিশ, গ্রামপুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বাঁধ অপসারণ করতে যান। গত দুদিনে শশীখালি বিলসংলগ্ন কবিরাজের খাল, গরীবউল্লা ও পাচউয়াখালী খালের শতাধিক নেট-পাটা ও কয়েকটি বাঁধ অপসারণ করা হয়।

বিউটি বেগম নামে এক কৃষাণী বলেন, ‘খালগুলো প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। দুই বছর আগে খাল খনন করা হয়। এর পরই এলাকার ক্ষমতাবান লোকজন খাল দখল করে মাছ চাষ শুরু করে। আমরা খালে নামতে পারতাম না, জমিতে পানি দিতে পারতাম না। আবার তাদের প্রয়োজনে ইচ্ছামতো লবণ পানি প্রবেশ করাত। এখন বাঁধ কেটে খাল উন্মুক্ত করা হয়েছে, আমাদের অনেক সুবিধা হবে। খালের পানি ব্যবহারের পাশাপাশি পাড়ে সবজি চার করা যাবে।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন বলেন, ‘বাগেরহাটে খাল খননের পর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাঁধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষ করায় পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না কৃষক। স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি খালের বাঁধ ও নেট-পাটা অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় যেসব খালে অবৈধ বাঁধ ও নেট-পাটা রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলো অপসারণ করা হবে।’ এজন্য সবাইকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন জেলার এ শীর্ষ কর্মকর্তা।