তাদের মতে, শুধু ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ নিলে কিছু অত্যাবশ্যক ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহে সংকট তৈরি হতে পারে। আবার শিল্পের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

গতকাল পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ওষুধের মূল্য: বিতর্ক ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী ও ওষুধ শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় একটি অংশ ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়। স্বাস্থ্য বীমার সীমিত সুযোগের কারণে এ ব্যয়ের বড় বোঝা সরাসরি রোগীকে বহন করতে হয়। ফলে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ শুধু বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় শিল্প এবং রাষ্ট্রের সামাজিক দায়বদ্ধতাও জড়িত।’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘১৯৯৪ সালে নির্ধারিত ১১৭টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম প্রায় তিন দশক ধরে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়নি। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার ফলে কিছু কোম্পানি এসব ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করেছে। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য পণ্যের মুনাফা দিয়ে এসব ওষুধে ভর্তুকি দিচ্ছে।’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও এআরকে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রুমানা হক বলেন, ‘দেশে বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ওষুধ ব্যবহার হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকাই মানুষ নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় করে। দুর্বল রেফারেল ব্যবস্থা, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনা এবং অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করে ওষুধ সেবনের প্রবণতা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়াচ্ছে।’ 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘দেশের ওষুধ শিল্প স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ করছে। ক্যান্সার, এইচআইভি ও যক্ষ্মাসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে।’ 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ‘২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মূল্যসংক্রান্ত গেজেটে অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণ এবং নতুন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এতে বিতর্ক থাকলে সংশোধনের সুযোগ ছিল। পুরো গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক নয়।’ 

রেনাটা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কায়সার কবির বলেন, ‘আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের ওষুধের দাম এখনো তুলনামূলকভাবে কম। শক্তিশালী বাজার প্রতিযোগিতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।’