কয়েক দফা হাতবদলের কারণে ভোক্তারা বেশি দামে পণ্য কিনলেও প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁতিরা।
তাঁতিরা জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে মণিপুরি তাঁতের শাড়ি দেশের ৫৬তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বদলায়নি তাঁতিদের ভাগ্য। প্রান্তিক তাঁতিদের মূলধন সংকটের সুযোগ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা অগ্রিম টাকা ও কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত পণ্য আগেই কিনে নিচ্ছেন। ফলে বাজারে চড়া দামে বিক্রি হলেও মুনাফার বড় অংশ চলে যাচ্ছে ফড়িয়াদের হাতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলধন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও পণ্যের আধুনিকায়নে উদ্যোগ নেয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কমলগঞ্জের আদমপুর, রানীবাজার ও মাধবপুর এলাকার অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ সরাসরি তাঁত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। অনেকে বাণিজ্যিকভাবে ছোট কারখানা গড়ে তুলেছেন। তবে নতুন উদ্যোক্তারা উৎপাদনের চেয়ে বিপণনে বেশি যুক্ত। এতে মুনাফার বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। মূলধন সংকটে অনেক তাঁতি ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
মণিপুরি তাঁতে শাড়ি, থ্রিপিছ, চাদর, গামছা, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে শাড়ির চাহিদা বেশি। তবে মেশিনে তৈরি নকল মণিপুরি নকশার পণ্য কম দামে বাজারে বিক্রি হওয়ায় আসল তাঁতিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একটি হাতে বোনা শাড়ি তৈরিতে দুজন তাঁতির প্রায় পাঁচদিন সময় লাগে এবং উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ২ হাজার টাকা। অথচ নকল পণ্য এর অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
আদমপুর ইউনিয়নের তাঁতি গীতা দেবী বলেন, ‘প্রান্তিক তাঁতিরা সরাসরি বাজারজাত প্রক্রিয়ার সঙ্গে এখনো পরিচিত নন। মূলধন সংকটে ফড়িয়াদের কাছ থেকে কাঁচামাল নিয়ে পোশাক তৈরি করতে হয়। পরে তাদের কাছেই পণ্য বিক্রি করতে হয়। এতে মুনাফার বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে।’
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের মাধবপুর বেসিক সেন্টার সূত্র জানায়, বড় তাঁতের জন্য ৪০ হাজার এবং কোমর তাঁতের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হয়। পাশাপাশি ‘ফ্যাশন ডিজাইন পেরি ইনস্টিটিউট’-এর মাধ্যমে তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিন ২৪০ টাকা ভাতা পান। তবে তাঁতিদের অভিযোগ, তাঁত বোর্ডসহ যেসব মাধ্যমে তাদের ঋণ দেয়া হয়, সেগুলো থেকে প্রান্তিক তাঁতিরা খুব কমই ঋণ পান।
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের কমলগঞ্জ বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার নিতাই চন্দ্র মোদক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিল্পের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে তাঁত বোর্ডের বেসিক সেন্টারে তাঁতিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তাঁত বোর্ড এখানকার তাঁতিদের সব রকম সহায়তা করছে। কোনো প্রান্তিক তাঁতি যদি ঋণ না পান, আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা করব।’










