বাগেরহাটে হঠাৎ কাল-বৈশাখী ঝড়ে একজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। এসময়  ঝড়ে দেড় শতাধিক ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে । রোববার  (৭ এপ্রিল)  সকালে  এই ঝড়ের কবলে পড়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার পুটিমারি, রাধাবল্লভ, গোবরদিয়া, ডেমা, বাঁশবাড়িয়া  ও কচুয়াসহ  জেলার বিভিন্ন  স্থানে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

এ ছাড়া বাগেরহাট টার্মিনাল এলাকায় ঝড়ে বিলবোর্ড পড়ে একটি বাস ও ৫ টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন বাস শ্রমিক আহত হয়েছে। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে  কাজ করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

রোববার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার রাধাবল্লব বেড়িবাঁধ এলাকায় সরজমিনে দেখা  যায়, বাঁধের পাশে আশ্রয় নেয়া তারা বানু খোলা আকাশের নিচে সন্তানদের নিয়ে বসে আছেন। তার ভাষায়, মুহূর্তের মধ্যেই ঘর উড়িয়ে নিয়ে সব শেষ করে দিয়েছে। এখন ঘরের পোতা ছাড়া কিছু নেই, কি করব, কোথায় যাব জানি না।

বাগেরহাট পৌরসভার সোনাতলা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পৌনে দশটার দিকে হঠাৎ মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে অন্ধকার নেমে আসে। এরপরই প্রচণ্ড বাতাস, ঝড়ো হওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বেশকিছু গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ডেমা এলাকায়  রিয়াদ হোসেন বলেন, মুহূর্তের ঘরের চাল সব কিছু ঝড়ে উড়ে গেছে এখন খোলা আকাশে রয়েছি। কয়েকদিন পর ঈদ কি করব কিছু বুঝতে পারছি না। সরকারের সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব না।

গোবরদিয়া এলাকার  নিলা নামের একজন বলেন,  সকাল বেলায় ঘেরের কাজ করছিলাম। হঠাৎ  করে দমকা হাওয়া কিছু বোঝার আগেই  ঘরের চাল, বেড়া সব কিছু  উড়ে গেছে। ঘরের  টিন উড়ে গাছের মাথায় উঠে গেছে। এখন  খোলা  আকাশের নিছে আছি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক খালিদ হোসেন বলেন,  আকস্মিক ঝড়ে বেশকিছু ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাছপালা উপড়ে পড়েছে ক্ষতিপূরণ নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্ট  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের  নির্দেশ দেয়া হয়েছে তালিকা পেলেই ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।