বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের অভায়াশ্রম
এলাকায় মাছ ধরা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে বনকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদ হাওলাদারসহ ৮ জনকে আসামি করে স্থানীয় শরণখোলা থানায়
একটি মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) বিকেলে শরণখোলা উপজেলার
খুড়িয়াখালী বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক
(এসিএফ) শেখ মাহাবুব হাসান, ফরেস্টার মতিউর রহমান ও স্পিডবোট চালক সিরাজুল ইসলাম গুরুত্ব
আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভুক্তভোগী শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার মো.
জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে আসাদ হাওলাদার, সাইফুল ইসলাম রুবেল খলিফাসহ ৮ জনকে আসামি করে
মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মো. জসিম এরই মধ্যে
গ্রেফতার হয়েছেন। তাকে বিকেলে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা
(ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, সুন্দরবনের আলীবান্দা এলাকা পরিদর্শন শেষে
ফেরার পথে খুড়িয়াখালী বাজার এলাকায় শরণখোলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসাদ হাওলাদারের
নেতেৃত্বে ১০-১২ জন আমাদের পথরোধ করেন। এ সময় তারা অভ্যায়শ্রম এলাকায় অন্যাদের মাছ
ধরার সুযোগ দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন এবং নিজেরা অভ্যায়শ্রম এলাকায় মাছ ধরার অনুমতি
দাবি করেন। তবে তাদের নিষিদ্ধ স্থানে মাছ ধরার অনুমতি দেয়া হবে না জানালে তারা বনকর্মীদের
ওপর হামলা চালান।
দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে
এ বনকর্মকর্তা বলেন, তাদের হামলায় (এসিএফ) শেখ মাহাবুব হাসানসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে বন কর্মকর্তাদের অভিযোগ অস্বীকার করে
আসাদ হাওলাদার বলেন, এসিএফ মূলত টাকার বিনিময়ে অভায়শ্রমে মাছ ধরার অনুমতি দিয়ে আসছেন।
এতে সাধারণ জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে জানালে এসিএফ
ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের একজনকে ধাক্কা মারেন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আমাদেরও একজন
আহত হয়েছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, হামলার ঘটনায় মো. জসিম নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে
সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায়
তদন্ত চলছে বলেও জানা এ পুলিশ কর্মকর্তা।









