প্রধানমন্ত্রীর অপমানজনক বক্তব্য প্রত্যাহার এবং এক দফা দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। আজ বেলা ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাষ্কর্য থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ‘অপমানজনক’। উনার সেই বক্তব্যের পর (রোববার) সন্ধ্যা থেকেই চাকরিপ্রার্থী ও কোটা বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হল থেকে নেমে আসেন। সারাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, রাত ১০টার পর থেকে ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান, বিক্ষোভ ও মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের জন্য যে অপমানজনক মন্তব্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) করেছেন, অবশ্যই সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে সেই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) করতে হবে।

তিনি বলেন, দুপুর ১২টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী যদি তার বক্তব্যটি প্রত্যাহার না করেন তাহলে সারাদেশের সব শিক্ষার্থীকে সোমবার দুপুর ১২টায় দেশের সব স্থানে বিক্ষোভ মিছিল পালনের আহ্বান করছি।

শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ নারী কোটা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও ১০ শতাংশ জেলা কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করা হয়। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। পরে চলতি বছরের ৫ জুন সেই আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ের পর নতুন করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে তারা কোটা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার চার দফা থেকে দাবি এক দফায় নামিয়ে আনেন আন্দোলনকারীরা। তাদের এক দফা হলো—সব গ্রেড থেকে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে এবং অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কোটা পদ্ধতি সংশোধন করতে হবে।