সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের গুলিতে আরাফাত আমিন তমাল নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন। শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে ক্লাস বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত তমাল অষ্টম ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফিয়া বলেন, ‘শিক্ষক রায়হান শরীফ ক্লাসে মৌখিক পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি আমাদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের কারো কি পোষা প্রাণী আছে? আমার একটা পোষা প্রাণী আছে।” এ সময় তিনি তার সঙ্গে থাকা কালো ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে আমাদের বলেন, “এটা হচ্ছে আমার পোষা পাখি।” এ সময় হঠাৎ করেই পিস্তল থেকে গুলি বের হয়ে যায়। গুলি তমালের পায়ে লাগে। এ সময় শ্রেণীকক্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষক রায়হান শরীফকে আটকে রাখা হয়।’
শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘কেন হঠাৎ গুলির ঘটনা ঘটল জানি না। ঘটনার বিষয়ে যতটুকু জেনেছি, শিক্ষক রায়হান শরীফ অসময়ে ক্লাস নিতে চাইলে শিক্ষার্থীরা অপারগতা জানান। এ নিয়ে বাক্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই শিক্ষক তমালের পায়ে গুলি করেন। আহত ওই শিক্ষার্থী শঙ্কামুক্ত। তিনি মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
ওই শিক্ষক মাঝেমধ্যেই অস্ত্র প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসে আসেন। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নান মিয়া জানান, শিক্ষক রায়হান শরীফকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার কাছে থাকা পিস্তলটিও জব্দ করা হয়েছে। তবে পিস্তলটি নিবন্ধিত কিনা তা যাচাই করা যায়নি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান, ওই শিক্ষার্থীর ডান পায়ের ওপরের অংশ গুলিটি লেগেছে। তবে তার পকেটে মোবাইল ফোন থাকায় তিনি গুরুতর আহত হননি। তবে বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত। শিক্ষক ডা. রায়হান শরীফকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।










