ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ‘বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলাদা করে কোনো আলাপ হয়নি’ বলে জানালেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এক বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন এ কূটনীতিক।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরো জোরদার এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পৃথক কোনো আলোচনা হয়নি। চুক্তিটি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি। ফলে এ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কিছু নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ চুক্তিতে আপনারা যদি কিছু খারাপ দেখেন, সেটা আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আমরাও দেখছি। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত সেই রকম কিছু প্রতীয়মান হয়নি।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে চুক্তি নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা হয়নি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও সামরিক বিষয় সংক্রান্ত কিছু বিষয় উল্লেখ থাকলেও তা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়।’
চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে থাকে, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি “উইন-উইন” পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।’
চুক্তিকে এখনই পুরোপুরি নেতিবাচক বা ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার মতে, এটি একটি বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এর অনেক ধারা কাজে লাগানো যাবে।
মার্কিন উচ্চ আদালতের ট্যারিফ সংক্রান্ত রায়ের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো বিকাশমান বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। চুক্তি সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি চুক্তিতে সংশোধন ও পুনরায় আলোচনার সুযোগ থাকে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা করে পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো বাধার মুখে না পড়েন।
‘নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাজ অব্যাহত রাখা’ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘তারা নিশ্চিত করেছেন যে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করবে। আগামী দিনে কীভাবে মার্কিন বিনিয়োগ এ দেশে আসবে, সেই জন্য দু-একটা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছেন, যা দূর করলে সেটা আমেরিকান বিনিয়োগের জন্য সহজতর হবে।’
প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কিছু নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার আছে, যেগুলো দূর করা গেলে তাদের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্সের জন্য বাংলাদেশ এলিজিবল হবে।’
গতকাল ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের পল কাপুর। আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী, পল কাপুর আজ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।










