কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স অন্য স্বাস্থ্য সেবাদাতাদের অবস্থান বা কোয়ারেন্টিনের জন্য বিভিন্ন হোটেল বরাদ্দ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে এসব হোটেলের ভাড়া বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকারি ট্রেনিং সেন্টারের আবাসিক সুবিধা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জাতীয় কমিটি। কমিটির সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গিয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী জাহিদ মালেক সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ জাতীয় কমিটিসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, করোনা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য হোটেল ভাড়া করা হয়েছে, যা ব্যয়বহুল। এছাড়া বর্তমান প্রটোকল অনুসারে একজন চিকিৎসক মাসে মাত্র এক সপ্তাহ কাজ করছেন, যা বাস্তবসম্মত নয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব করোনা হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য হোটেলের পরিবর্তে সরকারি ট্রেনিং সেন্টারের হোটেল বা আবাসিক সুবিধা ব্যবহার করা যায় কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন চিকিৎসক সাতদিন কভিড-১৯-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার পর ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকবেন। দায়িত্ব পালন ও আইসোলেশন শেষে সাতদিন তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে আবার দায়িত্বে ফিরে যাবেন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলে নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা সুবিধা পাবেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সরকারি একটি হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালনরত এক চিকিৎসক নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা আর ১০টা রোগের চিকিৎসা দেয়ার মতো এক নয়। এখানে প্রতি মুহূর্তে নিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নিয়েই সবাই ডিউটি করে। নিজে আক্রান্ত হয়ে নিজের পরিবারকেও বিপদে ফেলে দিই কিনা এমন আতঙ্ক সবার মধ্যেই কাজ করে। অনেকের বৃদ্ধ বাবা-মা সঙ্গে থাকেন। এরই মধ্যে চিকিৎসক সন্তান থেকে সংক্রমিত হয়ে বাবা-মায়ের মৃত্যুবরণ করার ঘটনাও ঘটেছে। তাই ডিউটিকালীন আলাদা আবাসনের বিকল্প নেই এবং সে আবাসন ও খাবারের ব্যাপারে কোনো অসুবিধা যোগ হলে তা ইতিবাচক হবে না। এছাড়া করোনা ইউনিটে একটানা অনেকদিন ডিউটি করাও খুবই রিস্কি ব্যাপার। তাই এসব বিষয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলেই সবার উপকার হবে।

এদিকে ৩০ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এক আদেশে চিকিৎসকদের আইসোলেশন সুবিধা বাতিল করে। অফিস নির্দেশনায় বলা হয়, কভিড-১৯ পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে এলে চিকিৎসক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইসোলেশনে যেতে হবে না। এছাড়া রাজধানীর বাইরে একাধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ ছিল।

করোনা চিকিৎসায় শুরু থেকেই পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই চিকিৎসকদের সেবা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, শুরুতে রোগীদের রোগ গোপন করা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই চিকিৎসকদের সেবা কার্যক্রম চালু রাখতে হয়েছিল। ফলে সে সময় অনেক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়ে পড়েন। পরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ বাড়িয়ে এ সংকট পূরণ করা হয়। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিশেষ করে পিপিই পরা ও খোলার জন্য বিশেষ গাইডলাইন আছে। যদি সেই নিয়ম মেনে পিপিই না খোলা হয়, তাহলেও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ফলে অনেক চিকিৎসক এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে পড়েছেন। আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে দেরি করা এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থাকায় অনেক চিকিৎসককে আমাদের হারাতে হয়েছে।