তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দূর করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ভাতা নিশ্চিতে কাজ শুরু হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার সব ভাতাকে ‘‘একই ছাতার আওতায়’’ আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

গতকাল জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক ও শাহাজাহান চৌধুরীর করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা ১১টায় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। এ অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

প্রশ্নোত্তরে বিগত সরকারের আমলের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে ফারজানা শারমিন বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের আমলে সমাজকল্যাণ বিভাগ যত অবৈধ এবং মনগড়া কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেগুলো অচিরেই সংশোধন করা দরকার। ওই সময়ে দেশে একটি অস্থির সময় বিরাজ করেছে। আমাদের হাতে বর্তমানে যে তালিকাগুলো আছে, সেগুলো আমরা রি-চেক (পুনরায় যাচাই) করছি। কারা সত্যিকার অর্থে এই উপকার পাওয়ার যোগ্য, আমরা তা দেখছি। ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যুতে ১৪টি ইউনিটে কাজ শুরুর পর সেখান থেকে ফিডব্যাক নিচ্ছি। ভাতার কার্ডগুলোতে যেসব অনিয়ম আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে আমরা সমাধানের দিকে যাচ্ছি। এছাড়া বিগত সময়ে যেসব আইন ও নীতিমালা করা হয়েছে, সেগুলো যাচাই করে একটি সুষ্ঠু নীতিমালার আওতায় আনা হবে।’

দেশে ভাতা কর্মসূচি চালুর কৃতিত্ব সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রোগ্রাম প্রথম চালু করেন আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে অন্য সরকারগুলো এটি বাস্তবায়ন করে। তবে বিগত সময়গুলোতে এসব তালিকায় ব্যাপক স্বজনপ্রীতি করা হয়েছিল। আমাদের মূল্য তালিকা নয়, বরং কারা প্রকৃত সুবিধাভোগী হওয়ার যোগ্য, তা চিহ্নিত করা। আমরা এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই কমিটির মাধ্যমে তালিকাগুলো যাচাই-বাছাই করে সত্যিকার অর্থে যারা বেনিফিশিয়ারি (সুবিধাভোগী), তারাই যেন কার্ড ও সুযোগ-সুবিধা পান তা নিশ্চিত করা হবে।’ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই যাদের প্রকৃত প্রয়োজন, তাদের কাছেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন ভাতা ও উপকারভোগীদের সমন্বিতভাবে ‘একই ছাতার আওতায়’ আনার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে ভাতা পাওয়ার জন্য টাকা দাবি করার ঘটনাও সামনে আসে। এটা অবশ্যই দুর্নীতি। আমরা সরবরাহ ব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ করার চেষ্টা করছি। উপকারভোগীদের সমন্বিতভাবে চিহ্নিত করতে সরকার ‘‘ফ্যামিলি কার্ড’’ নামে একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আমরা ক্রমান্বয়ে চেষ্টা করব একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে সব সুবিধাভোগীকে একটি পরিবারের আওতায় নিয়ে আসতে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে সহায়তা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’