বিকল্প উৎস থেকে পানি ব্যবহার করছেন—এমন ১১ হাজার ভবন মালিকের তালিকা তৈরি করেছে যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহারকারী এসব ভবন মালিককে প্রতি মাসে বাড়তি ৩০০ টাকা করে বিল পরিশোধ করতে নোটিস দিয়েছে পৌরসভা। যদিও এটা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভবন মালিকরা। আজ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সভা আহ্বান করেছে নাগরিক সমাজ। প্রয়োজনে আন্দোলন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, পৌরসভার মাসিক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিল নির্ধারণ করা হয়েছে। পৌরসভা থেকে পানি নেয়া বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌরসভা পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা অনুযায়ী অন্য কোনো উৎস থেকে পানি ব্যবহার করলে তারও বিল দিতে হবে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ যশোর পৌরসভার মাসিক সভায় বাড়ি ও ভবন মালিকদের সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহারে ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর পৌর এলাকায় জরিপ চালিয়ে সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহারকারী ১১ হাজার বাড়ির মালিককে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে তিন হাজার বাড়ির মালিককে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা হারে ফি পরিশোধের জন্য নোটিস করা হয়েছে।

চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌরসভা পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা অনুযায়ী পৌর পরিষদের অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে পানির সংযোগ নেয়া যাবে না। এ কারণে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ পৌর পরিষদের মাসিক সভায় বাসাবাড়ি বা অন্য ভবনে স্থাপিত সাবমার্সিবল পাম্পের জন্য ভবন মালিককে মাসিক ৩০০ টাকা বিল পরিশোধ করতে হবে।

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নাগরিক সমাজ। বিল প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কর নিচ্ছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ পানির কর। এছাড়া পৌরসভার সরবরাহ করা পানি বাবদ মাসে প্রায় ৩০০ টাকা বিল নেয়। কিন্তু নাগরিকরা ঠিকমতো পানি পায় না। বাধ্য হয়ে নিজ খরচে সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন করেছে তারা। সাবমার্সিবল পাম্প বাবদ প্রতি মাসে বাড়তি ৩০০ টাকা বিল নির্ধারণ অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় নাগরিক সমাজ বৃহত্তর কর্মসূচি দেবে।’

এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি) বিএম কামাল আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এক বছর আগের মাসিক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পৌর এলাকার ১১ হাজার বাড়ি মালিক শনাক্ত করেছি। যারা সাবমার্সিবল ব্যবহার করছেন। এদের মধ্যে তিন হাজার বাড়ির মালিককে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা বিল পরিশোধের নোটিস দেয়া হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে নোটিস দেয়া হবে। এটা আইন অনুযায়ী করা হয়েছে। আমরা কম ফি নির্ধারণ করেছি। পাশের ঝিনাইদহ পৌরসভায় ৫০০ ও কুষ্টিয়ায় ৮০০ টাকা বিল দিতে হয়। সে হিসাবে ৩০০ টাকা অনেক কম।’