দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো বেড়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ছয় শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনেই মারা গেছেন ৬৭ জন। আর গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৬। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫৯৩ জন। এ সময়ে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩২ জন ভর্তি হয়েছে। এ দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৮৩ জন।

এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, চট্টগ্রামে ১৬৫, বরিশালে ১৫৯, রাজশাহীতে ১৩৭, ময়মনসিংহে ৮২, রংপুরে ৬৫ ও সিলেটে নয়জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে ১ হাজার ৫৬৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৫ হাজার ১৬৩ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৫০ হাজার ৯৪১ জন। সে হিসাবে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪ হাজার ২২২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরো জানায়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে চারজন এবং সিলেট ও চট্টগ্রামে একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ৭৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হাম সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯। আর এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজার ২০১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২৪ ঘণ্টায় আরো ১ হাজার ২৩৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৬২ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৬৭ জন, চট্টগ্রামে ২৬৬, সিলেটে ১৯৩, বরিশালে ১০৯, খুলনায় ৯৮, ময়মনসিংহে ৮১, রাজশাহীতে ২৯ ও রংপুরে ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন।

এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪২৩ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৬২ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭১, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েও সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এর পরই বরিশাল বিভাগের অবস্থান। সেখানে মারা গেছে ১৯ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন প্রাণ হারিয়েছে।