বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডলফ হিটলারের প্রশংসা ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একটি মহল প্রভাব খাটিয়েছে বলে দাবি করছেন আজহারী। বুধবার (১ এপ্রিল) ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেয়া একটি বক্তৃতার কারণে আজহারীর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিলের কারণ করা হয়। ওই বক্তৃতায় তিনি অ্যান্টি সেমেটিক কথা বলেছিলেন। তিনি হিটলারের প্রশংসা করেন এবং ইহুদি গণহত্যাকে ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। এ ছাড়া বক্তৃতায় ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব প্রচার ও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য অনুসারীদের উসকানি দেয়ার বিষয়গুলো অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে নিরাপত্তার কারণে মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর জনাথন ডুনিয়াম সিনেটে বলেছিলেন, কমিউটিনি গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে মিজানুর রহমান আজহারীর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের বিষয়টি জানিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে আজহারীকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁকে বিমানে তুলে দেওয়া হবে।
এদিকে মিজানুর রহমান আজহারী বুধবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তার ভিসা বাতিল হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আজহারী লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম কমিউনিটির আমন্ত্রণে গত পাঁচ দিন ধরে আমি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছি। আমার সফর নিয়ে যে সংবাদটি ছড়িয়েছে, তা বিদেশী একটি প্রতিবেদনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা। ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক কোনো বক্তব্যকে দায়ী করা সম্পূর্ণ অসত্য। কারণ, এখনো পর্যন্ত আমি এখানে কোনো বক্তব্যই দিইনি।’
ভিসা বাতিলের কারণ নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী লিখেছেন, ‘বিভিন্ন দেশে বক্তাদের সফর ঘিরে চাপ বা প্রভাব থাকা অস্বাভাবিক নয়; আমার ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটেছে। কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল ও নাস্তিক্যবাদী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে একজোট হয়ে পুরনো, বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটহীনভাবে তুলে এনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে। ওই ভিডিওর সূত্র ধরে কয়েক বছর আগে যেমন যুক্তরাজ্যেও বাধা পাওয়ার কথা জানান আজহারী। আজহারী দাবি করেছেন, তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী।










