বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান, হলের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ, জ্যেষ্ঠ সহপাঠী ও শিক্ষকদের বুলিং, যৌন হয়রানি, ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে দুশ্চিন্তা, মন খুলে কথা বলতে না পারার কারণে হতাশা ও বিষণ্নতায় ভোগেন প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী। প্রচণ্ড মানসিক অস্থিরতা ও প্রতিকূল পরিবেশে খাপ খাওয়াতে না পারার কারণে ৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর মনে আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছে। তাই উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারেন না অনেকে। এর ফলেই তৈরি হতে পারে সমস্যা। প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, কোনো কিছু উপভোগ না করা, ঘুমের ধরনের পরিবর্তন, আত্মহত্যার চিন্তা, কাজে মনোযোগ দিতে না পারা ইত্যাদি অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ’ শীর্ষক সমীক্ষায় এ তথ্য বের করে আনা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সিনিয়র লেকচারার ওবায়দুল্লাহ আল মারজুক, এডিডি ইন্টারন্যাশনালের কমিউনিটি-ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল হারুন এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তানসেন রোজ।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়—সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার হার বেশি। ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা বিষণ্ণতার উপসর্গগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন। বাকি ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে হতাশার উপসর্গ দেখা যায়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার চিত্র তুলনামূলক কম। ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা হতাশার উপসর্গগুলো অনুভব করেছেন। অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা এ ধরনের উপসর্গের মধ্য দিয়ে গেছেন।

এবারের সমীক্ষায় মোট ১ হাজার ৫৭০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। ১৭-২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ৫৮০ জন বা ৩৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ২৩-২৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ৯১৯ জন বা ৫৮ দশমিক ৫৩ এবং ২৭-৩০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ৭১ জন বা ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।