বকেয়া বেতন দাবিতে গাজীপুরের শ্রীপুরে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এইচডিএফ অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা জৈনাবাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। মহাসড়কে আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় জনভোগান্তি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ, র‌্যাব, শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ কাজ শুরু করে। পরে সেনাবাহিনীর টহল দল শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, ঈদ বোনাস, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সড়কে বিক্ষোভ করেন তারা। কার্যাদেশ না থাকায় ঈদের আগেই মার্চের বেতন ও ঈদ বোনাস না দিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে চলতি মাসের ১০ তারিখ কারখানা খোলার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ সে সময় খোলেনি। গতকাল সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে দেখেন কর্তৃপক্ষ কাউকে না জানিয়ে পাঁচদিন ছুটি বাড়িয়ে ২২ এপ্রিল কারখানা খোলার ঘোষণা দিয়ে পুনরায় নোটিস দিয়েছে।

শ্রমিকরা বলেন, ‌মালিক পক্ষ আমাদের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে সুষ্ঠু কোনো সমাধান না দিয়ে বারবার কারখানা বন্ধের নোটিস টানিয়ে দিয়ে সময় পার করছে। ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে দেখি কারখানা বন্ধের নোটিস। আমাদের ন্যায্য বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছি।

কারখানার মালিক হুমায়ুন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, কারখানায় পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের সব দাবি পূরণ করে কারখানা খুলে দেয়া হবে।

মহাসড়ক অবরোধের পর হাইওয়ে ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। দুপুর ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মণ্ডল জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে শ্রমিকরা তাদের দাবি মেনে নেয়ার পর মহাসড়ক ছেড়ে যাওয়ার কথা জানান। পরে সেনাবাহিনীর টহল দল আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। পরে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে দুপুর ১২টার দিকে যান চলাচল শুরু হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক আবদুল লতিফ জানান, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।