নড়াইলে ২০১০ সাল থেকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন স্থানীয় কয়েকজন বেকার তরুণ-তরুণী। তখন হাতেগোনা কয়েকজন এ কাজ করতেন। এরপর তাদের সাফল্য দেখে এর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বর্তমানে জেলায় ১ হাজার ৬০০ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যার ২০-২৫ শতাংশই নারী। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি মাসে রেমিট্যান্স আসছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। ফ্রিল্যান্সিংয়ের এ অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ফলে বাড়ছে নতুন কর্মসংস্থান।

নড়াইল ফ্রিল্যান্সার অ্যাসিসোয়েশন সূত্রে জানা গেছে, ফ্রিল্যান্সিং করে অর্ধ শতাধিক উদ্যোক্তা বেকারত্ব ঘুচিয়ে হয়েছেন কোটিপতি। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইটালিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি মাসে নড়াইলে রেমিট্যান্স আসছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আয়ের পাশাপাশি এ বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস নেন কয়েকজন ফ্রিল্যান্সার। সরাসরি ও অনলাইনে ক্লাস করেন আগ্রহী শিক্ষার্থীরা।

নড়াইল ফ্রিল্যান্সার অ্যাসিসোয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ হাসান রনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় বাবাকে হারিয়েছি। চার সদস্যের পরিবার নিয়ে যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম, তখন কম্পিউটার কিনে ২০১২ সালে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছি। দুই মাস পর থেকেই একটু একটু করে আয় আসতে থাকে। ২০১৪ সালের পর আমাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তখন থেকে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছি। এ টাকা দিয়েই নিজে লেখাপড়া শেষ করার পাশাপাশি সংসার চালিয়েছি। নড়াইল শহরের আলাদাৎপুর এলাকায় নির্মাণ করেছি তিনতলা বাড়ি। বর্তমানে প্রতি মাসে দেড় থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছি।’

প্রশিক্ষক হাবীব ওয়ায়েদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সার হতে হলে প্রথমে ধৈর্য থাকতে হবে। কারণ ফ্রিল্যান্সিং যারা শুরু করেন তাদের প্রথম অবস্থায় কাজ শিখতে এবং পেতে একটু সময় লাগে। যদি ধৈর্য ধারণ করা যায় তাহলে সফল হওয়া যায়।’