বাংলাদেশে কার্যকর বন্ড বাজার গড়ে না তুলে সরাসরি ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স’ বা টেকসই অর্থায়নে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক বন্ডের মতো আধুনিক ধারণা বাস্তবায়নের আগে সাধারণ বন্ডের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা জরুরি।
আজ শনিবার রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত ‘সাসটেইনেবিলিটি সামিট-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ব্রান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্রান্ড ইনিশিয়েটিভ এ সামিটের আয়োজন করে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, টেকসই অর্থায়নের মূল ভিত্তি হলো ইএসজি (পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন)। তবে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে পরিবেশের বিষয়টি এখনো পেছনের সারিতে। প্লাস্টিক দূষণ ও নদী দূষণ আমাদের চারপাশকে গ্রাস করছে। এছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের দেশে কঠোর আইনি প্রয়োগের বিকল্প নেই।
দেশের করপোরেট সুশাসনের দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে করপোরেট সুশাসন এখনো কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এর প্রয়োগ কম। বিশেষ করে অনেক স্বাধীন পরিচালক (ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর) বোর্ডরুমের আলোচনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। তাদের পেশাগত দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।
তিনি জানান, বিএসইসি করপোরেট সুশাসনের নিয়মাবলীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে, তবে বাজার প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে ধীরনীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী গ্রিন বন্ড, সোশ্যাল বন্ড, ব্লু বন্ড এবং অরেঞ্জ বন্ডের মতো টেকসই ঋণপত্রের জয়জয়কার থাকলেও দেশের বাজারে এর ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমাদের ইকুইটি বাজার এখনো সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভরশীল, যারা বাজার বিশ্লেষণ না করে কেবল অন্যের কথার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করেন। অন্যদিকে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল বোর্ডে সরকারি সিকিউরিটিজ ছাড়া অন্য কোনো বন্ডের কার্যকর লেনদেন নেই বললেই চলে।
বন্ড বাজার অচল থাকার পেছনে মূল কারণ হিসেবে ব্যাংক ঋণের তুলনায় বন্ড ছাড়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত খরচকে দায়ী করেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে যেখানে তিন মাসে ঋণ পাওয়া যায়, সেখানে বন্ডের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করতে এক বছর লেগে যাচ্ছে এবং এর খরচও বেশি। আমরা বন্ড অনুমোদনের সময়কাল এবং প্রক্রিয়াগত খরচ দ্রুত কমিয়ে আনার কাজ করছি, যাতে উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণের চেয়ে বন্ডের দিকে বেশি আকৃষ্ট হন।
সাধারণ বন্ড বাজার সচল করার মাধ্যমেই দেশের পুঁজিবাজারে টেকসই অর্থায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।










