জনগণের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের প্রকৃত সার্থকতা আসবে। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রত্যাশা থেকেই মানুষ আন্দোলনে নেমেছিল।’

গতকাল সকালে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডেনমার্ক, কানাডা, ইরান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস ঢাকার হেড অব ডেলিগেশনসহ ঢাকার কূটনৈতিক মিশনের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এ স্থিরচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে নানা শ্রেণী-পেশা ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের কোনো মানুষই নিপীড়ন থেকে রেহাই পায়নি। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের দেশের মালিক এবং জনগণকে প্রজা মনে করতেন।’ ক্ষমতায় আসার পর তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে, এর মধ্য দিয়েই তৎকালীন সরকার ‘‘খুনের রাজনীতির সূচনা’’ করেছিল। পরবর্তী সময়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের একে একে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।’ তিনি এসব ঘটনাকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিরোধী মত দমনের অংশ হিসেবে বহু মানুষকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। বিভিন্ন বাহিনী ও এজেন্সিকে মানুষ দমন ও গুমের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১৮ সালে ছাত্রদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সরকার কোটা ব্যবস্থা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে আবার ছাত্রসমাজ রাস্তায় নামে।’

সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার পর বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি করা হয়।’ বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও নির্দলীয় ব্যবস্থার পক্ষে তাদের অবস্থান ছিল বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পাশাপাশি গণভোটের প্রস্তাবও সামনে আসে। জনগণ কোনো প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিলে সেই রায় বাস্তবায়ন করা সবার দায়িত্ব। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পরও আগের ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করেনি। বরং, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দলীয়করণ আগের চেয়ে বেড়েছে। সংসদের ভেতরে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানানো হলেও তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি।’ সংসদে ন্যায়বিচার ও অধিকার না পাওয়ায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন আমিরে জামায়াত।

‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি কোনো সরকারের সফলতা তুলে ধরার আয়োজন নয়; বরং ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শাসনের চিত্র এবং সেই সময়ে জনগণের ওপর নিপীড়নের ইতিহাস তুলে ধরাই এর উদ্দেশ্য। যাদের ওপর এখন দেশের দায়িত্ব রয়েছে, তাদের জনগণের প্রত্যাশা উপলব্ধি করে দেশ পরিচালনা করতে হবে। কেউ জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে অধিকার আদায়ের জন্য জনগণকে আবারো প্রস্তুত থাকতে হবে।’