সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রশাসক ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অব.) এস এম ফেরদৌসের বিরুদ্ধে নিয়মনীতি ও আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগ
তুলেছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বুধবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর মালিবাগে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে
আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে এস এম ফেরদৌসের
কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল সোনালী লাইফের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে
দিয়ে এস এম ফেরদৌসকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
(আইডিআরএ)।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, যোগদানের পরদিনই স্টাফ ক্যান্টিন বন্ধ করে সেখানে আনসারদের জন্য ব্যারাক প্রতিষ্ঠা এবং অফিসের কর্মপরিবেশ বিনষ্ট ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেন এস এম ফেরদৌস। তার বিরুদ্ধে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে উপদেষ্টা নিয়োগ করে তাদেরকে বিপুল পরিমাণ বেতন-ভাতা দেয়া, কোম্পানির ফাইন্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্ট, ইউনিট ম্যানেজার ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের নায্য পাওনা পরিশোধ না করা, কোনো কারণ না দেখিয়েই গাড়ি চালকদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়া, কোম্পানির অংশীদার ও মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার জন্য কোম্পানির ফান্ড থেকেই আইন উপদেষ্টাকে প্রায় ৫ লাখ টাকা দেয়া, কোম্পানির ২০ এর অধিক নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় ৫ লাখ টাকা ব্যয় করা, ঈদুল আজহার সময় প্রশাসক নিজে ৩ লাখ টাকা ভাতা নেয়া, নতুন পরামর্শকদের ৪ লাখ টাকা দেয়া, আপ্যায়ন বাবদ ১ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রশাসক অন্যায়ভাবে ৫ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন। অথচ আদালত তা ফিরিয়ে দিয়েছে। একইদিন আবার ১৩ জনকে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিস না দিয়ে রাত ১০টায় হোয়াটসঅ্যাপে বরখাস্ত করার বিষয়ে অবগত করেন। তারাও আদালত থেকে তা ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। এছাড়া সোনালী লাইফের আইটি বিভাগের কর্মকর্তাকে প্রশাসকের কক্ষে অবরুদ্ধ করে সফটওয়্যারের সোর্স কোড নিয়ে নেয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরের মধ্যে এ প্রথম মৃত্যু ও অন্যান্য বীমা দাবি ৭ দিনের বেশি অতিক্রম করার পরও প্রদান করা হয়নি, যা এ কোম্পানির নিজস্ব অস্তিত্বের ওপর আঘাত হেনেছে। ২৮ হাজার বীমা কর্মীর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। কোম্পানি বাঁচাতে হলে এখনই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
এর আগে গত ৭ জুলাই আর্থিক অনিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগ
তুলে কোম্পানির জ্যেষ্ঠ পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন প্রশাসক এস এম ফেরদৌস।
শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার একদিন পর থেকেই তাদেরকে চাকরিতে
ফিরিয়ে নেয়াসহ ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সে দাবি মেনে নেয়া না হলে আরো দুই দফা দাবি যোগ করে ১১ জুলাই থেকে ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন
শুরু করেন তারা।
গত ১৪ জুলাই দাবি আদায়ে প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি
পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এক পর্যায়ে পরদিন সেসব দাবি সমাধান করার আশ্বাস দিয়ে কার্যালয়
থেকে বের হয়ে যান প্রশাসক এস এম ফেরদৌস। এরপর থেকে আর কার্যালয়ে আসেননি তিনি।
সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমদাদুল হক সাহিল জানান, তাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ ও এমদাদুল হক সাহিল।
এসব বিষয়ে কথা বলতে প্রশাসক এস এম ফেরদৌসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের
চেষ্টা করেও মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।










