চা পাতার ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন পঞ্চগড়ের চাষীরা। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। পঞ্চগড় জেলা শহর ও তেঁতুলিয়ায় দুদিন ধরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ চলছে। কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ করছেন চাচাষীরা। চা পাতা সড়কে ফেলে প্রতিবাদও জানান তারা।

অবিলম্বে কারখানা মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ন্যায্য দামে চা পাতা কেনার দাবিতে গতকাল দুপুরে পঞ্চগড় শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গি মোড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় চা বাগান মালিক সমিতি ও চা চাষী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের যৌথ আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে চা চাষী অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আবু সাইদ, বাগান মালিক সমিতির নেতা ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান শেখ মিলন, অমরখানা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরুসহ  ক্ষুদ্র চাচাষীরা বক্তব্য দেন। এ সময় সড়কে চা পাতা ফেলে প্রতিবাদ করেন চাচাষীরা।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, চা পাতা সংগ্রহের ভরা মৌসুমে কৃষকদের ঠকিয়ে কারখানার মালিকরা সিন্ডিকেট করে প্রতি বছর চা পাতা কিনছেন। শুধু কম দামে নয়, বিভিন্ন অজুহাতে ইচ্ছামতো দাম কর্তন করেই চলছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। মৌসুমের শুরুতে ২০-২২ টাকা কেজিতে চা পাতা কিনলেও কিছুদিন না যেতেই শুরু হয় কারখানা মালিকদের টালবাহানা। বর্তমানে ১২-১৩ টাকাও প্রতি কেজি চা পাতার  মূল্য পাচ্ছেন না চাষীরা। চাষীদের দাবি, উৎপাদন খরচ থেকে কম দামে চা পাতা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। নিলাম বাজারে চায়ের ভালো দাম না পাওয়ার দোহাই দিয়ে প্রতি বছর সিন্ডিকেটের কারণে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছেন কারখানা মালিকরা। শুধু চাচাষীদের ঠকিয়ে ক্ষান্ত হচ্ছেন না মালিকরা। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিলাম বাজারে চা বিক্রি না করে রাতের আঁধারে চোরাইপথে চা বিক্রি করছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে পঞ্চগড়ের চা শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। অবিলম্বে কাঁচা চা পাতার মূল্য বৃদ্ধি না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন চাষীরা। তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে গতকাল বিকালে তেঁতুলিয়া উপজেলা চা চাষীদের ব্যানারে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই মানববন্ধনে উপজেলার তিন শতাধিক ক্ষুদ্র চা চাষী অংশগ্রহণ করেন।

চা পাতার মূল্য বিষয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামিম আল মামুন জানান, চাষীদের কাছ থেকে কয়েকদিন ধরে অভিযোগ পাওয়ার পর আমি পঞ্চগড়ের চা প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলো পরিদর্শন করেছি। কারখানার মালিক ও চাষীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা কথা বলেছি। করণীয় ঠিক করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৮ মে বাগান মালিক, চা চাষী ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সভার আয়োজন করা হয়েছে।