বাংলাদেশের বাজারে জাপানি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জাপানিজ ফুড শোকেস: দ্য গ্লোবাল গেটওয়ে’ শীর্ষক প্রদর্শনী। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও জাপানি খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির পাশাপাশি জাপানি খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজনে আলোচনা হয়।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে দিনব্যাপী এ আয়োজন করে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) ঢাকা। এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ক্রেতা অংশ নিয়ে জাপানি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসায়িক বৈঠক করেন।
জেট্রো ঢাকার কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকায়, জাপানি খাবারের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে সারা দেশে ৫০টিরও বেশি জাপানি ও জাপানি-ধাঁচের রেস্তোরাঁ পরিচালিত হচ্ছে। ফলে জাপানি খাদ্য উপকরণ, মসলা, সিজনিং ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের চাহিদা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে ২০টিরও বেশি জাপানি কোম্পানি নিজেদের খাদ্যপণ্য তুলে ধরে। এর মধ্যে ছিল ইউগ্লেনা পাউডার, ইনারি-আগে, হাতে তৈরি সোমেন নুডলস, জাপানি সয়া সস, ইয়াকিনিকু সস, বার্লি মিসো, গ্রিন টি ও উমে-জাতীয় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। এছাড়া ওতাফুকু সস, প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত ভাত, অর্গানিক ম্যাচা, সবজি দিয়ে তৈরি দাশি স্টক ও ইনায়িওয়া উডনসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের এসব পণ্যের স্বাদ গ্রহণেরও সুযোগ ছিল। পরিবেশন করা হয় ইউগ্লেনা কুকিজ ও টেম্পুরা, ইনারি সুশি, ঠান্ডা ও গরম সোমেন, স্যামন সাশিমি এবং ইয়াকিতোরিসহ বিভিন্ন জাপানি খাবার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ উল্লাহ বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু খাদ্য প্রদর্শনী বা ব্যবসায়িক অনুষ্ঠান নয়, এটি জাপান ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে দুই দেশের খাদ্য উৎপাদক, রফতানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের মিনিস্টার আয়া ইয়োশিদা বলেন, খাদ্য ও কৃষি খাতে জাপান-বাংলাদেশের সহযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে জাপানি খাদ্যপণ্যের প্রবেশ ও বাজার সম্প্রসারণে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশে জাপানি খাদ্যপণ্যের প্রতি আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ছে। নিয়মিত এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরো জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।










