দেশের চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আর সিলেটে প্রাণ হারিয়েছেন একজন। এছাড়া মাদারীপুরে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। গতকাল দিনের বিভিন্ন সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—
সিলেট: গতকাল সকাল ৯টার দিকে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী বাজার এলাকায় পিকআপের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. কুতুব উদ্দিন (৪৫) নিহত হয়েছেন। তিনি জালালাবাদ থানার যুগিরগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, ‘লামাকাজী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একজন মারা গেছেন। তিনি জালালাবাদ থানা এলাকার বাসিন্দা। যে এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে এলাকা বিশ্বনাথ থানাধীন।’
অন্যদিকে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের দুই কর্মচারী নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি সাউদেরগাঁও এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে ছমিরুল হক জুয়েল (৩৮) ও সদর উপজেলার হাছননগর এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সবদর আলী (৩৭)।
জয়কলস হাইওয়ে থানার ওসি সুমন কুমার চৌধুরী জানান, নিহত ছমিরুল হক জুয়েল ও সবদর আলী সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রসেসিং সার্ভার পদে কর্মরত ছিলেন। সকালে জেলা প্রশাসনের জারীকৃত নোটিস নিয়ে মোটরসাইকেলে জগন্নাথপুর উপজেলায় যাচ্ছিলেন তারা। শান্তিগঞ্জের জয়কলস এলাকায় পৌঁছলে সিলেট থেকে আসা প্রাইভেট কারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যান জুয়েল। গুরুতর আহত সবদর আলী সিলেট যাওয়ার পথেই মারা যান।
ময়মনসিংহ: ভালুকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ যাত্রী। গতকাল সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভরাডোবা এলাকার তাসরিফ কটন মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন হালুয়াঘাটের কড়ইকান্দা গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে মো. শরীফ (২১) ও ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার আমিনুলের ছেলে নিরব (১৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভরাডোবা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সংস্কারকাজ চলছিল। এ সময় ঢাকাগামী শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি বাস উল্টোপথে যাচ্ছিল। তখন ময়মনসিংহগামী আয়ান পরিবহনের আরেকটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন মারা যান। এ সময় অন্তত ১০ যাত্রী আহত হন।
ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম: জেলার পটিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা পৌনে ১টার দিকে উপজেলার গৈড়লার টেক এলাকায় লেগুনার চাপায় নিহত হন শের মোহাম্মদ (৬০)। তিনি ওই এলাকার মৃত আবদুল হামিদের ছেলে। জমিতে কাজ করতে যাওয়ার পথে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় লেগুনার চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এছাড়া বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার জলুয়ার দিঘিরপাড় এলাকায় পূরবী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের চালক আবদুল কাদের (৪২) ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি নোয়াখালী জেলার মোহাম্মদ কিবরিয়ার ছেলে। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে।
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি জসীম উদ্দিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো জব্দ করা হয়েছে।
মাদারীপুর: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। গতকাল বেলা ২টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রায় ১ ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, বেপরোয়া গতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।










