ঈদ জামাতকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। মো. সরওয়ার বলেছেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

গতকাল জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান তিনি।

মো. সরওয়ার বলেন, ‘সব সময়ের মতো এবারো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়। এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত ও শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং ঢাকার অন্য সব স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

ঈদে নিরাপত্তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মো. সরওয়ার বলেন, ‘নিরাপত্তার শঙ্কা নেই, তার পরও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মনিটরিং করছে। যদি কিছু হয় আমাদের জানাবে। সেই অনুযায়ী আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য।’

জাতীয় ঈদগাহে ‘কয়েক স্তরের নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ‘প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব ও শিক্ষা ভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে অন্যান্য গাড়ি এ ঈদগাহ ময়দানের আশপাশের রাস্তায় না আসে। সেখানেও আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে।’

ঈদগাহের চারপাশে তল্লাশি ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে মো. সরওয়ার বলেন, ‘ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের প্যাট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিকে প্রবেশ করতে হবে। নারী বা মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট ও পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম সুইপিং করবে। আমাদের ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পুরো এলাকা ঘিরে অন্য একটা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা ঈদগাহে দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদের অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় থাকবে। সমন্বয় অনুযায়ী আমাদের ডিএমপির পুলিশ সদস্যরা কাজ করবেন।’

এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার প্রস্তুত থাকবে এবং মেডিকেল থেকে ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম থাকবে বলেও জানান তিনি। মো. সরওয়ার বলেন, ‘বায়তুল মোকাররমকেন্দ্রিক আলাদা কিন্তু প্রায় কাছাকাছি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ জাতীয় ঈদগাহকেন্দ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ‘জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেস ক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেছনের গলি, ইউবিএল বা পল্টন ক্রসিং, পুলিশ কন্ট্রোল রুম গ্যাপ, মৎস্যভবন ক্রসিং এলাকায় পুলিশের ডাইভারশন থাকবে। এসব এলাকা থেকে মুসল্লিদের পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করতে হবে।’

নির্ধারিত পার্কিং স্থানের বাইরে গাড়ি নিয়ে আশপাশে ঢোকার চেষ্টা না করতে সবাইকে অনুরোধ করেন মো. সরওয়ার। জাতীয় ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি কাজে সহায়তা করতে হবে। গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে, ব্যাগ বা কোনো কিছু আনা যাবে না। অন্য যেসব নিরাপত্তা বাহিনীর অনুরোধ সেটা রাখতে হবে। সন্দেহজনক কোনো কিছু মনে হলে নিকটস্থ পুলিশকে বা ৯৯৯-এ জানাতে হবে।’