বাগেরহাট গণগ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত বই রয়েছে। নির্দিষ্ট অংকের জামানত দিয়ে বাড়িতে বই নিয়ে পড়ার সুযোগও রয়েছে। তার পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পাঠক। মাত্র ৮৭ সদস্যের মধ্যে ২২-৪০ জন নিয়মিত বই সংগ্রহ করেন। সদস্যের বাইরে সাধারণ পাঠক নেই বললেই চলে।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, পাঠক বাড়াতে হলে বই পড়ার অভ্যাস তৈরির জন্য সচেতনা সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও লিফলেট বিতরণ করা যেতে পারে। মুঠোফোনের আসক্তি কমাতে পারলে পাঠক বাড়বে।

গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে গ্রন্থাগারটিতে ৪০ হাজার ৯৪২টি বই রয়েছে। এর মধ্যে বাংলা ভাষার ৩৭ হাজার ৩৩৬টি, ইংরেজি ভাষার ৩ হাজার ৫১৩টি এবং অন্যান্য ভাষার ৯৩টি বই রয়েছে। পড়ার জন্য প্রতিদিন মাত্র ৪০-৬০ জন পাঠক আসেন। মাত্র ৮৭ জন সদস্য রয়েছে গ্রন্থাগারে। তার মধ্যে পুরুষ ৪২, নারী ২২ এবং শিশু ২৩টি। তবে পাঠকের পাশাপাশি জনবল সংকটও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। একজন গ্রন্থাগারিক, একজন গ্রন্থাগার সহকারী, একজন অফিস সহকারী কাম নিরাপত্তা প্রহরী রয়েছেন। আউটসোর্সিংয়ে একজন ইলেকট্রিশিয়ান ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীও রয়েছেন। শূন্য রয়েছে জুনিয়র গ্রন্থাগারিক, ক্যাটালগার, বুকশাটার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও নিরাপত্তা প্রহরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। জেলার প্রধান এ গ্রন্থাগারে প্রতি বছর সরকারের ব্যয় হয় ২২-২৫ লাখ টাকার মতো। এর পরও গ্রন্থাগারে পাঠক না আসায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি পিসি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাফিজা আক্তার দোলা জানান, এখানে একাডেমিক বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়েন তিনি। মাঝে মাঝে পত্রিকাও পড়েন।

শুধু বাগেরহাট গণগ্রন্থাগার নয়, সরকারি পিসি কলেজের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা গ্রন্থাগারেও পাঠক নেই বললেই চলে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক মো. বেলায়েত হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শীতের কারণে পাঠক কিছুটা কম ছিল। এছাড়া পাঠক বাড়াতে বই পড়ার অভ্যাস তৈরির জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। সর্বোপরি মুঠোফোনের আসক্তি কমাতে পারলে পাঠকও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রন্থাগারের সদস্য হতে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হয়। আবদনের পর নির্দিষ্ট ফি দিয়ে সদস্য হওয়া যায়। পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির জন্য ১ হাজার টাকা, শিক্ষার্থী ৫০০ এবং শিশুদের জন্য মাত্র ২০০ টাকা জামানত দিতে হয়।’