স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত একদিনে ৬৪২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগের দিন ৮ এপ্রিল শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৮৯ জন। মাত্র একদিনের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়ে ৬৪২-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তির দিকে গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সব শিশুকে দ্রুত টিকার আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া গতকালের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হামে আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম বা হামের উপসর্গে আরো ছয় শিশু মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। অন্যদিকে গত ২৬ দিনে (১৫ মার্চ থেকে) সন্দেহজনক হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৪৩-এ পৌঁছেছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৬ দিনে হামে মৃত্যুর দিক থেকে রাজশাহী বিভাগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে মারা গেছে ৬৪ জন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ৫৮ জন, চট্টগ্রামে ১০, খুলনায় সাত, বরিশালে দুই এবং সিলেটে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত যে শিশুর মৃত্যু হয়েছে, সে ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে একজন, রাজশাহীতে চার এবং সিলেটে একজন রয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৫৬০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৩৭ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৮৯ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

inside.jpg

এ পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিচ্ছেন দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ পারভেজ জাবীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সব শিশুকে দ্রুত টিকার আওতায় না আনলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’

তিনি আরো পরামর্শ দেন, ‘১০ বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা নেয়া জরুরি। যেসব শিশু প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়, সেসব প্রতিষ্ঠান অন্তত এক-দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখার চিন্তাও করা যেতে পারে। এতে সংক্রমণের হার কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।’ এছাড়া তিনি সরকারের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে একটি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান, যা হাম প্রতিরোধে একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন করবে। তার মতে, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।