বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডাকে আন্দোলনে গিয়ে আমার ছেলে শহীদ হয়েছে। কিন্তু সরকার পতনের পর তারা কেউই আমাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি। শনিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় নাগরিক কমিটির আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এসব কথা বলেন জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত মারুফ হোসেনের বাবা।
সমাবেশে নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীরা জুলাই মাসের হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা তুলে ধরেন।
নিহত মারুফের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে ১৯ জুলাই বাড্ডায় পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিল। তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর তাকে মেডিকেলে নেয়া গেলেও আর বাঁচানো যায়নি। ডিবি পুলিশ আমাদের বাসায় আসে এবং আমাকে জামায়াত-শিবিরের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করে। আমি ৫ আগস্ট ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি কার কাছে বিচার চাইব? যেসব সমন্বয়কের ডাকে আমার ছেলে আন্দোলনে জীবন দিয়েছে। তারাও সরকার পতনের পর আমাদের কোনো খোঁজ নেয়নি। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরউদ্দীন পাটুয়ারী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্ররা আরেকটি মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নেতাকর্মীরা এখন নিজেদের দল গোছাতে ব্যস্ত। আওয়ামী লীগের সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। যারা গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছে তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে।
জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, দুই মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু শহীদ পরিবারের দায়িত্ব নেয়া বা আহতদের সুচিকিৎসার জন্য কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। যারা জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তারা এখনো মুক্ত ঘুরে বেড়াচ্ছে। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে আখতার বলেন, এই বাংলাদেশ শত শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর জন্য দায়ী সিন্ডিকেটের কালো হাত ভেঙে দিন, শহীদ পরিবারের দেখভাল করুন এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।










