মো. বেলাল। গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। বাবা–মা গত হয়েছেন আরো আগেই। জীবিকার তাগিদে চলে আসেন গাজীপুরে। চাকরি নেন একটি পোশাক কারখানায়। পাশেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে।  ঈদ উপলক্ষে দুইদিন আগেই কারখানা ছুটি হয়েছে। তবে ভোগান্তি এড়াতে ঈদের দিন বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। গাজীপুরে ঈদের জামাত পড়ে রওনা দেন রাজধানীর সদরঘাটের উদ্দেশে, সেখান থেকেই লঞ্চ ধরে বাড়ি যাবেন বলে।  

স্ত্রী মুক্তা ও একমাত্র মেয়ে মাইশাকে নিয়ে বিকালে এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চে উঠতে যান। এ সময় অন্য একটি লঞ্চের ধাক্কায় পন্টুনে বেঁধে রাখা লঞ্চটির রশি ছিঁড়ে গেলে তারা নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত হন অন্য আরো কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে।  পরে তাদের উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে বেলালের স্বজনরা ছুটে আসেন। স্বজন হারানোর বেদনায় তাদের অনেককেই আহাজারি করতে দেখা যায় হাসপাতাল চত্বরে। মুক্তার ভগ্নিপতি জহিরুল ইসলাম জানান, স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বেলাল গাজীপুরেই থাকতেন। 

ভোগান্তি এড়াতে ঈদের দিন লঞ্চে করে বাড়ি যেতে স্ত্রী–সন্তানকে নিয়ে তিনি সদরঘাটে এসেছিলেন। এখন সপরিবারে প্রাণটাই দিতে হলো। স্ত্রী–সন্তানসহ বেলালের মৃত্যুতে ওই পরিবারে আর কেউ রইল না। কেননা তার বাবা-মা মারা গেছেন আরো আগেই।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ঘটা এ দুর্ঘটনায় বেলালের পরিবার ছাড়াও নিহত হয়েছেন- ঠাকুরগাঁওয়ের রবিউল (১৯) ও পটুয়াখালীর রিপন হাওলাদার (৩৮)।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সদরঘাটে এমভি তাসরিফ-৪ ও এমভি পূবালী-১ নামে দুটি লঞ্চ দড়ি দিয়ে পন্টুনে বাঁধা ছিল। এ দুটির মাঝখান দিয়ে ফারহান নামের আরেকটি লঞ্চ পন্টুনে ভেড়ানোর চেষ্টা করেন চালক। এ অবস্থায় তাসরিফ-৪ লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে গেলে লঞ্চে ওঠার সময় পাঁচজন নিহত এবং আরো পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হয়।

এদিকে, দুর্ঘটনার বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যানের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।