নাব্য রক্ষায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলছে নদী খননকাজ। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, কৃষকদের ফসলি জমি কেটে নদী খনন করা হচ্ছে। কিছু প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের কারণে এরই মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব এ এলাকার শত শত মানুষ। অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্টদের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ মানববন্ধন করেছেন উপজেলার কয়েক গ্রামের শত শত কৃষক। তারা বলছেন, আমরা উন্নয়নকাজের বিরোধী নই, তবে সরকারি নিয়ম মেনে নদী খননের দাবি করছি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যানুযায়ী, বাঙ্গালী, করতোয়া, ফুলজোড় ও হুড়াসাগর নদী খনন ও নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ২১৭ কিলোমিটার নদী খননের কাজ চলছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরে ৯৪ কিলোমিটার রয়েছে। নাব্য সংকট রোধে সারা দেশের মতো সিরাজগঞ্জেও ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এ খননকাজ শুরু হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন এ প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পকাজ বাস্তবায়ন করছে পাউবো। এরই ধারাবাহিকতায় উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নে ফুলজোড় নদী খননের কাজ চলছে।

উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বন্যাকান্দি মৌজার নূরগঞ্জ, পেচারপাড়া ও চরপেচারপাড়া গ্রামবাসীর দাবি, তাদের রেকর্ড করা ফসলি জমি কেটে নদী খনন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ১০০ বিঘা ফসলি জমি খনন করা হয়েছে। আরো ১০০ বিঘা ফসলি জমি খননের মুখে রয়েছে। ফলে তিনটি গ্রামের কয়েকশ পরিবার নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় দিন পার করছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার দুই বিঘা পৈতৃক সম্পত্তি এরই মধ্যে খনন করা হয়েছে। সরকার নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নদী খনন করছে খুব ভালো কথা, এতে আমরাও উপকৃত হব।  আমরা উন্নয়নকাজের বিরোধী নই। কিন্তু সেটা নিয়ম মেনে হোক। ব্যক্তিমালিকাধীন ফসলি জমি কেটে করা হবে কেন। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, জমি নষ্ট করে কিছু করা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর এমনই নির্দেশনা রয়েছে। কারো ব্যক্তিগত জমি কেটে নদী খনন করা হচ্ছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ কেউ দেয়নি। নিয়ম মেনেই নদী খনন কাজ চলার কথা। তারা দালিলিক প্রমাণসহ লিখিতভাবে আবেদন দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।