ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে নীতি সহায়তার মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন করে নীতি সহায়তার জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণস্থিতি থাকা ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া হয়েছে।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে নীতি সহায়তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন আবেদন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়া যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগে গঠিত ‘ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নীতি সহায়তাসংক্রান্ত বাছাই কমিটি’ থেকে নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণস্থিতি থাকা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ক্ষেত্রে বিশেষ পুনঃতফসিলের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর পর্যন্ত করা যাবে। বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মেয়াদের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ চার বছর সময় বাড়ানো যাবে।
অন্যদিকে, কোনো ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের আবেদন করা ঋণ হিসাবের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকার কম হলে বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের বিআরপিডি সার্কুলার নং ৭-এ নির্ধারিত মেয়াদই প্রযোজ্য হবে।
আগে থেকেই ২০২৫ সালের ওই সার্কুলার অথবা বাছাই কমিটির মাধ্যমে নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতাদেরও নতুন সুবিধার আওতায় আনা যাবে। এ ক্ষেত্রে মধ্যে পার হওয়া গ্রেস পিরিয়ডকে নতুন গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে গণনা করে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত মেয়াদ বাড়ানো যাবে।
নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অশ্রেণীকৃত—এসটিডি-০, এসটিডি-১, এসটিডি-২ ও এসএমএ—ঋণগুলোকে বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধা এবং বিরূপমানে শ্রেণীকৃত—এসএস, ডিএফ, ও বি/এল—ঋণগুলোকে বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দেয়া যাবে।
এ-সংক্রান্ত সব আবেদন প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে আগের সার্কুলার ও এর ধারাবাহিকতায় জারি করা অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি লিখিত ব্যাখ্যাও দেয়া হয়। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের রফতানি খাতেও সাময়িক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালুর ফলে ঋণগ্রহীতা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে তাদের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতাও কমেছে। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঋণগ্রহীতাদের জন্য সাময়িক নীতি সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া খেলাপি ঋণ (এনপিএল) কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৮ মাসের একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর প্রথম ছয় মাস, অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের জন্য ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতায় বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে নীতি সহায়তার অংশ হিসেবে নতুন প্রজ্ঞাপটি জারি করা হয়েছে। এ সার্কুলারের মাধ্যমে বিশেষ করে বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের—যাদের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি—তাদের বিআরপিডি সার্কুলার নং ০৭/২০২৫-এ বর্ণিত পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়েছে।










