এতে সংস্থাটির অধীন ৭৫টি ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বর্জ্যবাহী ভারী ও হালকা যানবাহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সময়মতো বর্জ্য ল্যান্ডফিলে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ডিএসসিসি।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ২৭ হাজার লিটার ডিজেল ও দেড় হাজার লিটার অকটেন বরাদ্দ পেত সংস্থাটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেল বরাদ্দ কমিয়ে ১৮ হাজার লিটারে নামানো হয়েছে। একইভাবে অকটেন বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫০-৮০০ লিটারে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, মাসে নয় হাজার লিটার জ্বালানি তেলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বর্জ্য পরিবহন। এরই মধ্যে অনেক এলাকা ও প্রাথমিক স্টেশন থেকে বর্জ্য সরিয়ে ল্যান্ডফিলে নিতে বেগ পেতে হচ্ছে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ, দয়াগঞ্জ, শ্যামপুর, ধানমন্ডির কয়েকটি প্রাথমিক বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র ঘুরেও এ চিত্র দেখা যায়। কয়েকদিন ধরেই ওইসব কেন্দ্র থেকে বর্জ্য নেয়া হচ্ছে না। এতে আশপাশেও বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
বর্জ্য বিভাগের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে আগের চেয়ে কমসংখ্যক বর্জ্যের গাড়ি আসছে। এ কারণে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিন অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। একদিন যদি বর্জ্য না নেয়া হয়, তাহলে পরদিন দ্বিগুণ জমে। ফলে বর্জ্য নিয়ে ভীষণ সংকটে পড়তে যাচ্ছে ঢাকার মানুষ।
জ্বালানি বরাদ্দ কমানোর প্রভাব সরাসরি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে জ্বালানি বরাদ্দ যেন আগের পরিমাণেই দেয়া হয় সে বিষয়ে জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তবে আমরা যদি পরিমাণমতো জ্বালানি না পাই তাহলে আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’
বর্জ্য পরিবহন জরুরি নাগরিক সেবার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে এ খাতে জ্বালানি বরাদ্দ কমানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘অনেকভাবেই জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। কিন্তু তাই বলে জরুরি নাগরিক সেবা খাতে নিয়োজিত বর্জ্যবাহী গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমানো এক অর্থে ভুল সিদ্ধান্ত। এমনিতেই আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বলভাবে চলছে। এখন যদি এলাকা থেকেও বর্জ্য সঠিকভাবে সরানো না যায় তাহলে তো রাস্তায় রাস্তায় বর্জ্যের স্তূপ হয়ে যাবে। তখন সেখান থেকে মশা-মাছিসহ বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়বে। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায়ও বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি বরাদ্দ না কমিয়ে জ্বালানি চুরি বন্ধ করতে হবে। এত সংকটের সময়ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানি চুরি হচ্ছে। এ ব্যাপারে করপোরেশনকে কঠোর হতে হবে।’










