গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বদিউজ্জামান খোকা মোল্যার স্ত্রী জাহানারা বেগম চিলি। পরিবারের অসচ্ছলতা দূর করতে দুটি গরু কিনে পালতে শুরু করেন। দুধ ও গরু বিক্রির লভ্যাংশ থেকে তিনি আরো কয়েকটি গরু ক্রয় করেন। ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা ও আয় বাড়তে থাকায় বড় পরিসরে গড়ে তোলেন গরুর খামার। তার খামারটি বর্তমানে এলাকার আদর্শ খামার নামে পরিচিত। জাহানারার সফলতায় গরুর খামার গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় নারী-পুরুষ ও বেকার যুবকরা।
গরুর খামার দেয়ার আগে জাহানারা বেগম ১০ বছর মুরগির খামারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু মুরগির রোগব্যাধি, সময়মতো ভ্যাকসিন না পাওয়া এবং পোলট্রি ফিডের বাজার মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসানের সম্মুখীন হয়ে মুরগি খামার বন্ধ করে দেন। পরবর্তী দুটি দেশী গরু কিনে খামার শুরু করেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম ও পরিচর্যায় আসতে থাকে সাফল্য। ধীরে ধীরে খামারে গরুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার খামারে ফিজিয়াম, শঙ্কর, মন্টি ও শাহিয়াল নামে উন্নত চার জাতের দেশী-বিদেশী গাভী, বাছুর, ষাড়সহ ৩৫টি গরু রয়েছে। একটি গাভী দিনে ১০ থেকে ১২ লিটার দুধ দিয়ে থাকে। প্রতিদিন খামার থেকে ৮০ লিটার উৎপাদিত দুধ প্রায় ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। দুধ বিক্রি করেই প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় হয় তার।
খামার ঘুরে দেখা গেছে, জাহানারাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন তার স্বামী খোকা মোল্যা। গরুগুলোকে রাখা হয়েছে উন্নতমানের সেটে। প্রতিটি গরুর মাথার ওপর লাগানো হয়েছে ফ্যান। রয়েছে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও। গো খাদ্যের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করার জন্য বর্তমানে তিনি চার একর জমিতে নেপিয়ার ও পাকচং জাতের ঘাষ রোপণ করেছেন। এর পাশাপাশি জাহানার দেশী মুরগি ও ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে জাহানারা বেগমের খামারটি এলাকার আদর্শ খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
করোনাকালে বিপাকে পড়তে হয়েছিল জাহানারাকে। এ সময় চিকিৎসার অভাবে তার দুটি গরু মারা যায়। এছাড়া খাদ্য সংকট তৈরি হয়। এছাড়া লকডাউন পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যায় দুধ বিক্রি। তবে ধীরে ধীরে করোনার প্রভাব কাঠিয়ে উঠেছেন তিনি।
জাহানারা বেগম চিলি বলেন, আমি গবাদিপশুর খামার করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছি। প্রতিদিন ৮০ লিটার দুধ বিক্রি করে ৪ হাজার টাকা আয় হয়। আমার এ খামার দেখে আশপাশের নারীরাও গবাদিপশু পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। জাহানারার সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একই গ্রামের গনি শেখ, ফরিদ, শাহজাহান মোল্লা ও হেমায়েত শেখ গরুর খামার করে সাবলম্বী হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আজিজ-আল-মামুন বলেন, জাহানারা বেগমের গরুর খামারে সব গরুই উন্নত জাতের। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে এ খামারে নিয়মিত টিকা এবং ভিটামিনজাতীয় ওষুধসহ সব সুবিধা পাবে। আশা করছি গোপালগঞ্জের এ খামার একটি মডেল খামার হবে।









