তিনি বলেন, ‘হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতেন, বিরোধী দলও সে ভাষায় কথা বলছে। তারা গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছে।’
গতকাল রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। সরকারকে টেনে ধরার চেষ্টা করছে। হয়েছে তো মাত্র চার-পাঁচ মাস। এ কয়েক মাসেই তো অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। বহু পরিবর্তন। একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলা শুরু হয়েছে। একটা বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কাজটা তো এত সহজ না। কারো হাতে আলাদিনের চেরাগ তো নাই। অথচ তাদের ভাষায়, এ মুহূর্তে হতেই হবে।’
দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে আমাদের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে একদিনের জন্যও আপনারা তেল বা গ্যাস থেকে বঞ্চিত হননি। সরবরাহ কমেছে। আগে যেখানে ১০ পাওয়া যেত, এখন হয়তো চার বা তিন পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেটাও আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, অতি অল্প সময়ের মধ্যে এ সমস্যারও সমাধান হবে।’
দেশের জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তেল, গ্যাস ও জ্বালানি নিয়ে আমাদের সমস্যা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ১৫ বছরে নতুন তেল-গ্যাসের খনি আবিষ্কারের জন্য কোনো চেষ্টা করেনি। গ্যাস-তেল অনুসন্ধানও হয়নি। আমাদের একটি প্রতিষ্ঠান আছে, বাপেক্স। এ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান ও কূপ খননের কাজ করা হয়। কিন্তু আগের সরকার বাপেক্সকে প্রায় পঙ্গু করে রেখেছিল। আমরা সেটিকে আবার চালু করেছি। বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। তারা এখন আসছে। আমাদের তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে জাহাজে করে আমদানি করতে হয়। এতে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।’
আমদানি ব্যয় বাড়ায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যেসব পণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলোর দাম বাড়ার অন্যতম কারণ আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া। জাহাজের ভাড়াও বেড়েছে। একটি জিনিসের দাম বাড়লে এর প্রভাব অন্য অনেক পণ্যের ওপর পড়ে। ফলে সামগ্রিকভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। বিষয়গুলো আমাদের বুঝতে হবে, না বুঝলে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।’
অনুষ্ঠানে লাভ শেয়ার বিডির নিজস্ব অর্থায়নে ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয় এবং ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মধ্যে ২৫টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। লাভ শেয়ার বিডির চেয়ারম্যান জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সামু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।










