একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টারে ‘উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার উন্নয়ন প্রেক্ষিত: সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বগুড়া ইতিহাস চর্চা ও গবেষণা কল্যাণ সংস্থা এ সেমিনারের আয়োজন করে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃতি ও ফ্যাসিবাদের কারণে দীর্ঘ দুই দশক ধরে পিছিয়ে থাকা উত্তরাঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক মূলধারায় ফেরাতে সুষম ও সমন্বিত উন্নয়নের বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘ইতিহাসকে বিকৃত করার একমাত্র দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তারা নিজেদের মতো ইতিহাস তৈরি করে। সব ইতিহাস ভুলে গিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ঈর্ষান্বিতভাবে উত্তরাঞ্চলকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তোলার জন্য কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘বর্তমান সরকারের শাসনামলে দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধ হয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ায় একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। দীর্ঘ ২০ বছর অবহেলার শিকার হওয়া উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার পরিকল্পিত উন্নয়নে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।’
বিশেষ অতিথি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বঞ্চনা ও বৈষম্য দূর করে সারা দেশে সুষম উন্নয়ন পৌঁছে দিতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।’
বগুড়ার প্রবীণ বুদ্ধিজীবী ডা. সিএম ইদরিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ আলোচনা তুলে ধরেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান। তিনি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে অবিলম্বে ‘বগুড়া বিভাগ’ গঠনের জোর দাবি জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সরকারি মুজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. বেলাল হোসাইন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আয়োজক সংস্থার উপদেষ্টা ডা. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার।
অনুষ্ঠানে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা (বগুড়া-৬), আব্দুল মুহিত তালুকদার (বগুড়া-৩), ইকরামুল বারী টিপু (নওগাঁ-৪), জাহিদুল ইসলাম ধলু (নওগাঁ-৫), শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (নওগাঁ-৬), মো. আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২), আবুল কাওছার নজরুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৩), আব্দুল ওয়ারেস (গাইবান্ধা-৫), ফজলুর রহমান সাইদ (জয়পুরহাট-১), আইনুল হক (সিরাজগঞ্জ-৩), সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি উপস্থিত ছিলেন। আরো ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল হক তৈয়ব জাকির, জয়পুরহাট জেলা পরিষদ প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ জন অধ্যাপক ও গবেষক।










